Gujrat Model : আটশো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে পড়ুয়ারা ক্লাস নিচ্ছে, এটাই আসল গুজরাট মডেল দাবি বিরোধীদের
বাংলার জনরব ডেস্ক: পশ্চিমবাংলার বিজেপি নেতারা প্রতিদিন সকালে উঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে থাকেন। কিন্তু পাঠকবর্গ জানেন কি? আমাদের দেশে এমন একটি রাজ্য আছে যেখানে ৮০০টি সরকারি প্রাথমিক স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। শিক্ষকদের বদলে পড়ুয়ারা ছাত্র পড়াচ্ছেন। কোন শ্রেণিকক্ষ নেই। ফল ঘরের মধ্যেই ওয়ান, টু, থ্রি– এক সঙ্গে বসেই পড়ছে সবাই। কিন্তু শিক্ষিকার বয়স দশের কোঠায়।
এটাই বিজেপি শাসিত রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত হাল। আবশ্য বিজেপি শাসিত এই রাজ্যটিকে দেশের কাছে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপিত করেছেন মোদি শাহরা। এই রাজ্যটির নাম গুজরাট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মস্থান মহাত্মা গান্ধীর জন্মস্থান সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল এর জন্মস্থান এই মহান মানুষটির জন্মস্থানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই । পড়ুয়ারা ছাত্র পড়াচ্ছেন একটা-দুটো স্কুলে নয়, ৮০০ সরকারি স্কুলে। এটাই নরেন্দ্র মোদির ভারত বর্ষ । এটাই স্বচ্ছ ভারতের ভবনা। এটাই আচ্ছা দিনের স্বপ্ন সফল। গুজরাটের প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষাব্যবস্থার এই হাল নিয়ে সম্প্রতি জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেই প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এই খবরটি নেওয়া হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,এসব দেখে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে আসল শিক্ষক কোথায়? গোটা স্কুলে সাকুল্যে রয়েছেন একজন শিক্ষক। তাঁকেই সমস্ত দায়িত্ব সামলাতে হয়। তাই হাজার কাজের চাপ সামলে ক্লাসে গিয়ে পড়ানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। উঁচু ক্লাসের পড়ুয়াদেরই দায়িত্ব নিতে হয় ছোটদের পড়াশোনা শেখানোর।
গুজরাটের (Gujarat) কচ্ছ অঞ্চলের গ্রাম অঙ্গিয়া নানার একটি স্কুলে ধরা পড়ল এমন ছবি। সেই স্কুলের একমাত্র শিক্ষক বিজয় কুমার প্যাটেল জানিয়েছেন, শিক্ষকতা ছাড়াও স্কুলের মিড-ডে মিল, প্রশাসনিক কাজ, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব, সব কাজই একা হাতে করতে হয়। তিনি আরও বলেছেন, “মাঝে মাঝে পঞ্চম শ্রেণির ভাল পড়ুয়াদের সাহায্য নিতেই হয় আমাকে। ওরা যখন পড়ায়, তখন আমি খাতা দেখি বা স্কুলের অন্যান্য কিছু কাজ করি।”
স্কুলে এসে সারাদিন কীভাবে কাটে বিজয়ের? তিনি জানিয়েছেন, প্রথমে চতুর্থ এবং পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়াদের পড়ান। তারপরে তাদের কিছু কাজ দিয়ে অন্য ক্লাসের পড়ুয়াদের নিয়ে বসেন। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়ারা একসঙ্গেই বসে। তাদের পড়ানো হয়ে গেলে তিনি স্কুলের অন্যান্য কাজ নিয়ে বসেন। তখন পড়ানোর দায়িত্ব যায় পড়ুয়াদের কাছে।
জানা গিয়েছে, এই ৮০০টি স্কুলের থেকে খুব আলাদা নয় গুজরাটের সামগ্রিক প্রাথমিক স্কুলের পরিস্থিতি। এই প্রসঙ্গে উঠে এসেছে কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রীর করা একটি বক্তব্য। তিনি বলেছিলেন, গান্ধীনগরের ‘বিদ্যা সমীক্ষা কেন্দ্র’র মতো আধুনিক উদ্যোগ অনুসরণ করা উচিত প্রত্যেকটি রাজ্যের। গুজরাটের সামগ্রিক উন্নয়ন দেখে তিনি অত্যন্ত গর্বিত। তাঁর বক্তব্যের কিছুদিন পরেই প্রকাশ্যে এসেছে গুজরাটের প্রাথমিক স্কুলের এহেন দশা।
সামনেই গুজরাটের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই স্কুলের এমন অবস্থা নিয়ে গুজরাট সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে আপ, কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলি। দিল্লির উপ মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া টুইট করে লিখেছেন, “২৭ বছর ধরে গুজরাটের শিক্ষাক্ষেত্রে কী অবদান বিজেপি সরকারের।” সঙ্গে স্কুলের দুর্দশার কয়েকটি ছবিও দিয়েছেন তিনি। কংগ্রেসও পালটা দিয়ে বলেছে, গত দু’ বছরে মাত্র ১৯টি সরকারি প্রাথমিক স্কুলে তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রায় ৪০০টি বেসরকারি স্কুল তৈরি হয়েছে।

