সুসংহত মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা এবং মাদ্রাসা বোর্ড তৈরিতে শহিদুল ইসলামের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে
বাংলার জনরব ডেস্ক : মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন নেতা শহীদুল ইসলাম গত ২৭ শে এপ্রিল কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁর মৃত্যুতে একটা যুগের অবসান হল বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন। গত ২৪ এপ্রিল রবিবার ইফতার করার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপর থেকেই তিনি কলকাতার রিপোজ নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন সেখানেই গত ২৭ শে এপ্রিল বুধবার তার মৃত্যু হয়।
শহিদুল ইসলাম মাদ্রাসার ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন মূলত তাঁর নেতৃত্বে আন্দোলনের ফলেই আজকের মাদ্রাসা বোর্ড গঠিত হয়েছিল।

তাঁর আপসহীন লড়াই আন্দোলন এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের ঐকান্তিক ইচ্ছায় পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা বোর্ড ১৯৭৩ সালে গঠিত হয়। শুধু তাই নয় রাজ্যজুড়ে মাদ্রাসাগুলিকে সরকারি অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রেও শহিদুল ইসলামের অবদান স্বীকার করতেই হবে।
একটা সময় তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যুব কংগ্রেসের নেতা ছিলেন, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি এবং সুব্রত মুখোপাধ্যায় কাছের মানুষ বলে পরিচিত ছিলেন। তবে পরবর্তীকালে তিনি রাজনীতি থেকে সরে আসেন এবং বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
মিল্লাত এবং সমাজের উন্নয়নের জন্য তিনি নীরবে কাজ করে গেছেন। বাংলার মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন শহিদুল ইসলাম এ বাংলার ইতিহাসে থেকে যাবেন।শহিদুল ইসলামের বড় গুন ছিল তিনি কথা দিলে কথা রাখতেন। যা আজকের সমাজে বিরল।
গত রবিবার ২৪ শে এপ্রিল ইফতার করার পর তিনি অজ্ঞান হারান। মনে করা হচ্ছে, প্রচন্ড গরমের কারণে তিনি সেন্স হারিয়েছিলেন। তারপর তাকে কলকাতার রিপোজ নার্সিংহোম ভর্তি করা হয় সেখানেই তিনি ২৭ এপ্রিল ইন্তেকাল করেন।
তার মৃত্যুর খবরে রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।মরহুমের জানাজা এবং দাফন তার জন্ম ভিটা বাদুড়িয়ায় সম্পন্ন হয়েছে ২৭ এপ্রিল রাতে।
বাংলার জনরবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল গভীর। বাংলার জনরবের প্রতিষ্ঠাতা সেখ ইবাদুল ইসলামকে তিনি সন্তানের মত ভালোবাসতেন। প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নিতেন। এ প্রসঙ্গে ইবাদুল ইসলাম জানিয়েছেন শহিদুল ইসলাম মিল্লাত এবং সমাজের জন্য অবদান রেখে গেছেন তার প্রতিদান আল্লাহ তাকে নিশ্চয়ই দেবেন। তিনি ইসলামের প্রতিটি নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। মেকি মিল্লাতি ছিলেন না। সাদাকে সাদা কালোকে কালো বলতে তিনি পারতেন। আল্লাহ তাঁর জান্নাত নসিব করুক এই কামনা করি।
সেখ ইবাদুল ইসলাম আরো বলেন, বালিগঞ্জ ফাঁড়ির সামনে যে মসজিদটি এখন তৈরি হয়েছে তা করেছেন শহিদুল ইসলাম। বালিগঞ্জের মতো জায়গায় মসজিদ করতে গেলে তার কি কি সমস্যা হতে পারে তার সবকটি সমস্যা তিনি মুখোমুখি মোকাবিলা করেছিলেন। এলাকার প্রতিবেশীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিবিড় ছিল। এরকম অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে যিনি নীরবে কাজ করে গেছেন।
সেখ ইবাদুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক এবং যুগোপযোগী করে তোলার জন্য শহিদুল ইসলাম সত্তরের দশক থেকে চেষ্টা করে গেছেন তাঁর সেই চেষ্টারই ফল হচ্ছে আজকের মাদ্রাসা বোর্ড। অর্থাৎ মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে সুসংহত করে এবং মাদ্রাসা বোর্ড তৈরির নেপথ্যে শহিদুল ইসলামের অবদানকে অস্বীকার করা যাবে না।

