আন্তর্জাতিক 

Imran Khan: যে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব বেশ হয়েছে তিনি সংসদ ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করতে পারেন না জানালো পাকিস্তানের শীর্ষ আদালত, অনাস্থা বাতিল অসাংবিধানিক

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : আদালতে ধাক্কা খেলো ইমরান সরকার। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট আজ বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ করে সংবিধান অমান্য করা হয়েছে । এদিন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সাংবিধানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই রায় দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এরপরই সুপ্রিম কোর্ট জাগিয়েছে দেশের সংবিধান অনুসারে অনাস্থা প্রস্তাব সংসদে গৃহীত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী কেউই তা বাতিল করতে পারে না। অনাস্থা প্রস্তাব সংসদে পেশ করতে হবে এবং তা নিয়ে আগামী শনিবার ভোটাভুটি করতে হবে বলে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার টানা চতুর্থ দিনের শুনানির পর প্রধান বিচারপতি উমর আটা বান্দিয়ালের নেতৃত্বে গঠিত পাক সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে জানিয়েছে আগামী শনিবার ফের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে হবে ইমরানকে।

রবিবার পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের বিরুদ্ধে আনা বিরোধী জোটের তরফে পেশ হওয়া অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ভোটাভুটির কথা থাকলেও ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি তা খারিজ করে দিয়েছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় আনা এই অনাস্থা প্রস্তাব আসলে সংবিধান-বিরোধী এবং তা দেশের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই পাক সংবিধানের ৫ নম্বর ধারা মেনে এ নিয়ে কোনও ভোটাভুটি হতে দিতে পারবেন না তিনি।

এর পরেই ইমরানের সুপারিশে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট আলভি। তার প্রতিবাদে রাতেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন বিরোধীরা নেতৃত্ব। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে সোমবার থেকে শুনানি শুরু করেছিল সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার রাতে পাঁচ জন বিচারপতিই একমত হয়ে রায় ঘোষণা করেন।

পাঁচ বিচারপতি বেঞ্চ রায়ে জানিয়েছেন, পাক সংবিধানের ৯৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, এক বার প্রক্রিয়া শুরুর পরে আস্থা বা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি কেউ ঠেকাতে পারেন না। স্পিকার বা প্রেসিডেন্টও নন। আর যে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে, তিনি প্রেসিডেন্টকে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ভেঙে দেওয়ার সুপারিশও করতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে তাই ডেপুটি স্পিকারের পদক্ষেপ অংসাবিধানিক।

কারণ, গত সোমবার (২৮ মার্চ) পাক পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যামেম্বলির বিশেষ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার সুরির অনুমোদনেই প্রধানমন্ত্রী ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেছিল বিরোধী দলনেতা শাহবাজ শরিফ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ