কলকাতা 

কোভিড ভেদ করে কী আবার খুলতে চলেছে শিক্ষাঙ্গন, কেমন চলছে অনলাইনে পড়াশোনা-কী ভাবছেন বিদ্যালয় প্রধানেরা

শেয়ার করুন

নায়ীমুল হকের প্রতিবেদন : করোনাকালে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ স্কুল। চলছে অনলাইনে পড়াশোনা। কোথাও নেটওয়ার্ক সমস্যা, কেউ বলছে বাড়িতে একটাই ফোন, পড়াশোনার সময়ে তা পাওয়া যাচ্ছেনা, আবার কেউ বলছে ফোন থাকলেও রিচার্জ করার মতো পয়সা নেই। তাহলে এখনই কী খুলে দেওয়া দরকার স্কুল-কলেজ, নাকি আরেকটু মাপ-জোক করে দেখে-শুনে, তবে! প্রায় সমান সমান মতামত শিক্ষকদের, শিক্ষা নিয়ে যাঁরা চিন্তা করেন তাঁদের।

কৃষ্ণাংশু মিশ্র

এই প্রশ্ন নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় হাজির হই কলেজ স্ট্রিট চত্বরে ঐতিহ্যশালী পশ্চিমবঙ্গ প্রধান শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে। প্রশ্ন শুনে এক মুখ হাসি নিয়ে এগিয়ে আসেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক দক্ষিন চাতরা হাই স্কুলের মাননীয় প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণাংশু মিশ্র। ছাত্র দরদী শিক্ষকের কপালে কিন্তু এবার চিন্তার ভাঁজ। তিনি বললেন গত দু’বছর ধরে ছাত্র-ছাত্রীরা একেবারে নাজেহাল। করোনায় আক্রান্ত হয়েছে সকলেই। তবে গুঞ্জন কিন্তু শিক্ষাঙ্গন নিয়ে। এমনটা হবে কেন! মনোভাবটা যেনো, করোনায় আক্রান্ত সবথেকে বেশী ছাত্র-ছাত্রীরাই। ঘটনা কিন্তু তা নয়। তবে যাই হোক টিকাকরন শুরু হয়েছে, এবার কিন্তু স্কুলের দরজা খোলা উচিত। নানারকম বিন্যাস, সমবায়ের কথা ভাবা হয়েছে। যেখানে যেটাতে সুবিধা, সেভাবেই খোলা দরকার বিদ্যালয়। অনলাইনে পড়াশোনার ফলে ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গ্রাম বাংলায় অনেক ছাত্র-ছাত্রীর কাছে স্মার্টফোন অধরাই তৎসহ ইন্টারনেটের নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবার অভাব ।এ ছাড়াও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে ছাত্র ও শিক্ষকের যে প্রত্যক্ষ সংযোগ, তা কোথায়? বিদ্যালয়ে এসে নিয়মানুবর্তিতা এবং বন্ধুদের জন্য সহমর্মিতার যে শিক্ষা লাভ হয় তা অনলাইন ব্যবস্থায় কোথায় ।

একই প্রশ্ন নিয়ে এবার উপস্থিত হয়েছিলাম সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড.দেবব্রত মুখোপাধ্যায়-এর কাছে। পদার্থবিদ্যার শিক্ষক তিনি, প্রসঙ্গক্রমে উঠলো এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের কথা। কালক্ষেপন না করে তিনি জানালেন, কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে হাতে কলমে বিভিন্ন বিষয়ের প্রাক্টিক্যাল ক্লাসের ভিডিও চিত্র আপলোড করা হয়েছে। এগুলো ছাত্র-ছাত্রীদের প্রভূত উপকারে আসবে। নিউ নরমালে অনলাইন ক্লাস ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কতটা। উপযোগী হয়েছে, এ প্রসঙ্গে তাঁর মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তিনি জানালেন, কোভিডকালে বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিয়মিত অনলাইনে ক্লাস করেছেন। প্রযুক্তির ব্যবহারে ছাত্র-ছাত্রীরাও অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গিয়েছে। তবে অনলাইন ক্লাসের ভিন্ন আঙ্গিকও আছে। অনলাইনে শিক্ষা বাচ্চাদের মধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিন্তু বৈষম্য বাড়িয়ে দিয়েছে। যে বাড়িতে একটামাত্র স্মার্টফোন কিন্তু একাধিক সন্তান, সেই সব অভিভাবকরা অনলাইন ক্লাসের জন্য বড়োর হাতে আগে ফোন তুলে দিচ্ছেন। সেই সময়ে ছোটোরা অনলাইন ক্লাসে যোগ দিতে পারছে না। আবার যাঁদের স্মার্টফোন নেই কিংবা ঠিক সময়ে রিচার্জ করার মত অর্থ জোগাড় করতে পারছেন না তাঁরা হীনমন্যতায় ভুগছেন। মা-বাবা ফোন নিয়ে কাজে চলে যাওয়ার কারণে অনেকে অনলাইন ক্লাস করতে পারছে না। ফলে সেই সব ছেলে-মেয়েরা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ছে। এছাড়াও অনেকে আবার অনলাইন ক্লাসে ফোন মিউট করে বসে থাকছে। শিক্ষক-শিক্ষিকরাও অনলাইনে সবার উপর নজর রাখতে পারছেন না। শহর থেকে গ্রামের, সেখান থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার এক প্রতিচ্ছবি উঠে এলো তাঁর কথায়।

 ড.দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

উল্লেখ্য, সম্প্রতি এক সমীক্ষায় জানা যাচ্ছে, অনলাইন ক্লাস হলেও ৭৫% পড়ুয়া অনলাইন ক্লাসের থেকে এখনও বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ বেশি পছন্দ করে। ৫৭% পড়ুয়া ই-লার্নিংয়ের ক্ষেত্রে বৃহত্তম বাধা হিসাবে দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগকে দায়ী করছে। পড়ুয়াদের মধ্যে ৩১% মনে করে, অনলাইনে ফোকাস করা কঠিন এবং ১২% অনলাইনে পড়াশোনার সময়ে প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পেতে অসুবিধে হচ্ছে বলে জানিয়েছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ