PM Security : প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে পাঞ্জাবের কংগ্রেস সরকারকে ভেঙে দেওয়া হলে লাভ হবে কংগ্রেসের, উড়ালপুলের উপরে কুড়ি মিনিট প্রধানমন্ত্রীর কনভয় দাঁড়িয়ে থাকার দায় কোনভাবেই অস্বীকার করতে পারে না কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, গোয়েন্দা দপ্তর এবং এসপিজি
সেখ ইবাদুল ইসলাম : পাঞ্জাবে কৃষক বিক্ষোভের জেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উড়ালপুল এর উপরে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করতে হয় পরে সভা বাতিল করে তাকে ফিরে আসতে হয়। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে। বিরোধীরা বিশেষ করে বিজেপি পাঞ্জাবের কংগ্রেস সরকারকে দায়ী করেছে। অবিলম্বে এই সরকারের বরখাস্তের দাবি তুলেছে। একইসঙ্গে দেশজুড়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু করেছে বিজেপি।
আম আদমি পার্টি থেকে শুরু করে পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং দাবি করেছেন, পাঞ্জাবের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী অযোগ্য তাকে বরখাস্ত করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকার কি সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশের মানুষ। প্রথমত প্রধানমন্ত্রীকে বিক্ষোভ দেখানো অধিকার প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে গণতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত।

পাঞ্জাবে তাই ঘটেছে। কয়েকটি গণমাধ্যম যেভাবে পাঞ্জাব সরকারকে কাঠগড়ায় তুলছে তাতে এটা প্রচার করার চেষ্টা চলছে যে পাঞ্জাবের শিখ বিজেপি বিরোধী। এই প্রচারকে হাতিয়ার করে অন্য রাজ্যগুলিতে নির্বাচনী ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে বিজেপি। কিন্তু বিষয়টির ভেতরে প্রবেশ করলে প্রথমেই মনে রাখতে হবে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় দায়িত্বে রাজ্য সরকার ছিল না প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব সরাসরি বহন করে প্রধানমন্ত্রীর জন্য গঠিত স্পেশাল প্রোটেকশন ফোর্স বা এসপিজি। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তর।
প্রধানমন্ত্রী যখন রাজ্য সফর করেন ঠিক সেই সময় সেই সফরের যাবতীয় দায় এবং দায়িত্ব গ্রহণ করে থাকে সরাসরি এলপিজি এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তর রাজ্য সরকারের প্রশাসন এবং পুলিশ সহায়তা করে মাত্র।এর বাইরে রাজ্য সরকারের কোন ভূমিকা থাকে না এই সহজ সত্য কথাটা গণমাধ্যমগুলো তুলে ধরতে চাইছে না তারা একতরফাভাবে কংগ্রেস সরকারকে দায়ী করে চলেছে।
উড়ালপুল এর ওপরে কুড়ি মিনিট প্রধানমন্ত্রীর কনভয় দাঁড়িয়ে থাকার দায় সরাসরি এসপিজিকে নিতে হবে, নিতে হবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তরকে এবং নিতে হবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে। কারণ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এর ছাড়পত্র কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তরের সবুজ সংকেত এবং এসপিজি এলাকা পরিদর্শন না করে কোনো ভাবেই প্রধানমন্ত্রীকে সেই পথ দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে না।
অথচ সংবাদমাধ্যমগুলো ভুলভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে চলেছে যে কংগ্রেস সরকার দায়ী, অতএব কংগ্রেস সরকারকে বরখাস্ত করতে হবে। এটা খুব স্পষ্টভাবে বলা যেতে পারে পাঞ্জাবে যদি কংগ্রেস সরকারের গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে কেন্দ্র সরকার তাতে পাঞ্জাবে কংগ্রেসের সুবিধা হবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস বিপুল গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবে বলে আমাদের মনে হয়েছে।
আম আদমি পার্টি ও অমরিন্দর সিং যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তাতে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা থাকাটা স্বাভাবিক কিন্তু তার মানে এটা নয় যে, একটা আইনকে উল্টে তাঁরা কথা বলতে পারেন এবং সেই কথাটা খুব সহজভাবে পাঞ্জাবীরা জানেন এবং পাঞ্জাবের মানুষ বিশ্বাস করেন। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে অমিত শাহ এর দপ্তর যে ভাবে দায় ছিড়ে ফেলতে চাইছে সেটা কোন মতেই কাম্য নয় কারণ মনে রাখতে হবে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা দায়িত্ব সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তর এবং এসপিজি দেখে থাকে।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন বিভিন্ন নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে জানা যাচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী ডাকা জনসভাকে বয়কট করার ডাক দিয়েছিল পাঞ্জাবের কৃষক সংগঠনগুলি। এমনকি তারা এলাকায় এলাকায় গিয়ে বলেছিল যেন প্রধানমন্ত্রী সভায় কেউ না যায়। শুধু তাই নয় প্রধানমন্ত্রীর পাঞ্জাব সফরকে ঘিরে সমগ্র রাজ্যজুড়ে রাস্তায় নেমে মিছিল এবং বিক্ষোভ প্রদর্শনের কথা ঘোষণা করেছিল কৃষক সংগঠনগুলি। কৃষক সংগঠনগুলির মূল দাবি ছিল আন্দোলন করতে গিয়ে যে ৫০০ জন কৃষক মারা গেছে তাদেরকে কেন্দ্র সরকার কে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মূলত এই দাবি নেই তারা আন্দোলন করছিল ওই দিন বিক্ষোভ মিছিল করছিল সারা পাঞ্জাব জুড়েই।খবরটা কি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর কিংবা এসপিজি কিংবা গোয়েন্দা দপ্তর জানতো না ? যদি না জেনে থাকে তাহলে পুরো দায় গোয়েন্দা দপ্তরের।
প্রধানমন্ত্রীকে বিক্ষোভ দেখানো নিয়ে যেভাবে হৈচৈ করা হচ্ছে তাদের জন্যও সবিনয়ে জানাই ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুকেও বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে পাটনায় বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল লখনৌতে। দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে ও বিক্ষোভ দেখানো দেখানো হয়েছিল, কালোপতাকা দেখানো হয়েছিল এমনকি জরুরি অবস্থা জারির পর তার বাড়ি ঘেরাও করেছিল তৎকালীন জে এন ইউ এর সাধারণ সম্পাদক আজকের সিপিএম পার্টির সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। সেদিন ইন্দিরা গান্ধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেননি।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন সাংসদ এবং বিশিষ্ট আইনজীবী সরদার আমজাদ আলী বাংলার জনরবকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বা প্রধানমন্ত্রী উড়ালপুলের উপরে কুড়ি মিনিট আটকে থাকার দায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তর এবং এসপিজিকেই নিতে হবে অন্য কারও উপর এই দায় চাপানো যায় না। তবে কিছু সংবাদমাধ্যম যেভাবে এর জন্য সরাসরি পাঞ্জাবের কংগ্রেস সরকারকে দায়ী করছে এই প্রসঙ্গে সরদার আমজাদ আলী বলেন, রাজ্য সরকারের দায় বলতে এটাই এই সরকার এসপিজির নির্দেশমতো প্রধানমন্ত্রীর যাওয়ার রাস্তা করে দেবে এসপিজি যা বলবে সেই অনুযায়ী চলবে। এবার তদন্ত করে দেখতে হবে এসপিজি এ বিষয়ে বা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তর এ বিষয়ে কি কি নির্দেশ রাজ্য সরকারকে দিয়েছিল সেই নির্দেশ মত রাজ্য সরকার চলেছে কি চলেনি তাহলে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, না হলে কোন প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকবে না।
তবে যেসব সংবাদ মাধ্যম মোদির নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে পাঞ্জাব সরকারকে বরখাস্তের দাবিতে সরব হয়েছে সেইসব সংবাদমাধ্যমের মনে রাখা উচিত যদি এই ধরনের পদক্ষেপ কেন্দ্র সরকার গ্রহণ করেন তাহলে তা কংগ্রেসের পক্ষে শাপে বর হবে। কার্যত এই রাজ্য থেকে বিরোধীদলগুলো মুছে যাবে কারণ সেদিনের ঘটনার নেপথ্যে পাঞ্জাবের কৃষকসমাজ পুরোপুরি আন্দোলনে ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কৃষক আন্দোলন করতে গিয়ে পাঞ্জাবের যে ৫০০জন মানুষ মারা গিয়েছিল তাদের ক্ষতিপূরণের দাবি। সেই ক্ষতিপূরণের দাবি নিয়ে মোদি সরকার এখনও নীরব কেন রয়েছে ? এই প্রশ্নটা আবার নতুন করে নির্বাচনী ময়দানে উঠে আসবে। আর সরকারকে ভেঙে দিলে সেই দাবি আরো জোরদার হবে এবং পাঞ্জাবের পাঞ্জাবিদের অস্মিতাতে আঘাত আসবে, শুধু পাঞ্জাবীদের অস্মিতা নয় দেশের সমস্ত কৃষকদের অস্মিতাতে আঘাত আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে মোদি সরকারের কাছে এটা একটা বড় সংকট তৈরি করতে পারে।
সুতরাং যে সকল রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ কয়েকটি বিশেষ সংবাদ মাধ্যমে বসে বড় বড় কথা বলছেন তারা এটা বিচার করতে বসেন নি যে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক কিন্তু সেই নিরাপত্তার’ সম্পূর্ণ দায় এবং দায়িত্ব কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তর এবং এসপিজির।

