জেলা 

পরিচালন সমিতির নিয়োগ কৃত শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের নথি যাচাই করা নির্দেশ ডিএমই-র , এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মামলাকারী আইনজীবী আবু সোহেল

শেয়ার করুন
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিবেদক : সুপ্রিম কোর্ট গত ১৫ মে ২০১৮ এক অন্তবর্তীকালীন রায়ে ২০১৬ সালের ৩ মার্চ সরকার অর্থাৎ মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর যে সার্কুলার দিয়েছিল পরিচালন সমিতিকে শিক্ষক নিয়োগ করার জন্য , সেই সার্কুলার মোতাবেক শিক্ষক নিয়োগ হলে দু মাসের মধ্যে তাদের বকেয়া বেতন সহ সমস্ত প্রাপ্য মিটিয়ে দিতে বলেছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রায় দেড় মাস পর(২৯/৬/২০১৮) মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে জেলার ডিআইদের । তাতে বলা হয়েছে মাদ্রাসা পরিচালন সমিতির পক্ষ থেকে ৩/৩/২০১৬-র নোটিফিকেশন অনুযায়ী যেসব নিয়োগ করা হয়েছে তাদের মাধ্যমিকের অ্যাডমিটসহ সমস্ত ডিগ্রির জেরক্স কপি এবং পরিচালন সমিতির নিয়োগপত্র নিয়ে ৯ জুলাই বিকাশ ভবনে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিকর্তার অফিসে হাজির হতে। চিঠি পাঠানো হয়েছে জেলার ডিআইদের মাধ্যমে।

            আইনজীবী আবু সোহেল

এদিকে এই চিঠি পাওয়ার পর সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে মামলাকারী মাদ্রাসা কাঁথি রহমানিয়ার পক্ষে আবু সোহেল মাদ্রাসা শিক্ষা অধিকর্তা ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের প্রধান সচিবকে ইমেলে চিঠি দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আদেশনামা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।Even if the teachers had not been paid for the period prior to 3.3.2016 they shall be paid their dues for the period they have served. It is made clear that all the incumbents shall be paid their dues in terms of this order whether they have approached this court or not and this order to be applied to all similarly situated incumbents. আইনজীবী আবু সোহেল মাদ্রাসা শিক্ষা অধিকর্তাকে ওই চিঠিতে প্রশ্ন করেছেন মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর নথি যাচাই করার এক্তিয়ার তাঁর আছে কিনা। তিনি অনুরোধ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নামাকে মেনে নিয়ে দ্রুত পরিচালন সমিতি দ্বারা নিয়োগকৃত শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া মিটিয়ে দিন সেই সঙ্গে এ ধরনের চিঠি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন।

আইনজীবী আবু সোহেল জানিয়েছেন,সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে সংখ্যালঘুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর অধিকার নিয়ে। মাদ্রাসা পরিচালন সমিতি শিক্ষক-ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করেছে ৩ মার্চ ২০১৬-র সরকারের সার্কুলারকে মান্যতা দিয়ে। পরিচালন সমিতি যাকে নিয়োগ করেছে নিশ্চয় তার নথিপত্র যাচাই করে নিয়েছে । এছাড়াও নিয়োগপত্র দেওয়ার পর পরিচালন সমিতির নিয়োগকৃত ব্যক্তির সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলার ডিআই/ এডিআই-র কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তাহলে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিকর্তা কোন অধিকারে কাগজ দেখতে চাইছেন? এটা তাঁর দেখার কথা নয়,আর সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া মিটিয়ে দিতে বলেছে কাগজপত্র দেখতে বলেনি বলে আইনজীবী আবু সোহেল মন্তব্য করেছেন।

আবু সোহেল বাংলার জনরবকে বলেছেন, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিকর্তা আবিদ হোসেনের বিরুদ্ধে তারা আদালতে মামলা করবেন। ভারতের সংবিধানের ৩০ (১) ধারায় বলা হয়েছে সংখ্যালঘুরা তাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি-শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্টান তৈরি করতে পারবে এবং তা স্বাধীনভাবে পরিচালনা করতে পারবে। আবার ৩০(২) ধারায় বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান হওয়ার কারণে রাষ্ট্র তাকে কোনভাবেই আর্থিক সাহায্য থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না। সংবিধানের এই অধিকার নিয়েই মাদ্রাসাগুলি যেহেতু সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্টান সেহেতু মাদ্রাসা পরিচালন সমিতিই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করবে কিনা এটা নিয়েই দেশের সর্বেোচ্চ আদালতে মামলা চলছে। আগামী ১২ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানী হবে ।


শেয়ার করুন
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment