দেশ 

করোনা মোকাবিলায় :মমতার দেখানো পথেই শেষ পর্যন্ত মোদী সর্বদলীয় বৈঠক ডাকলেন বুধবার

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিনিধি : অনেক আগেই প্রধানমন্ত্রী উচিত ছিল দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে করোনা নিয়ে আলোচনা করা । গণতান্ত্রিক দেশে এটাই নিয়ম । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবার আগে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে সব রাজনৈতিক দলের পরামর্শ নিয়েছেন তাদের সহযোগিতাও চেয়েছেন । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কাজটি করলেন দু সপ্তাহ আগে ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তা দু সপ্তাহ পরে করতে চলেছেন । এর মধ্যে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল প্রবাহিত হয়েছে । দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি খুব ভাল অবস্থায় নেই । পরিযায়ী শ্রমিকরা এখনও সবাই বাড়ি ফিরতে পারেনি । আর্থিক সংকট আরও বৃদ্ধি পেয়েছে । পরিকল্পনাহীন লকডাউনে ভারতের সংকট গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে । এই অবস্থায়  আগামী ৮ এপ্রিল অর্থাৎ বুধবার, ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশে করোনা পরিস্থিতি এবং লকডাউনের মধ্যে এই প্রথম বার সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে। আর সেই বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। এর আগে করোনা মোকাবিলায় রাজ্যগুলির হাল হকিকত জানতে মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে ভিডিয়ো কনফারেন্স করেন প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীর দেওয়া একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, যে সব রাজনৈতিক দলের অন্তত পাঁচ জন সদস্য সংসদে রয়েছেন তাদের ওই বৈঠকে আহ্বান জানানো হবে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, সফরে নিষেধাজ্ঞার কথা মেনে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই বৈঠক হবে।

এর আগে করোনা অতিমারি নিয়ে একাধিক বার সর্বদলীয় বৈঠক করার জন্য দাবি তুলেছিলেন বিরোধী দলের অনেক নেতাই। তাতে সায় দিয়েই আগামী ৮ এপ্রিল সকাল ১১টায় ওই বৈঠক ডাকা হয়েছে। সূত্রের খবর, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে রোডম্যাপ কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে ওই বৈঠকে। অন্য আর একটি সূত্র বলছে, করোনা পরিস্থিতিকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছাড়াও ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী-সহ মন্ত্রিসভার বহু গুরুত্বপূর্ণ মুখই। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে , প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যদি লকডাউনের আগে বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা করতেন তাহলে ভারতের সার্বিক অবস্থা এতটা খারাপ হত । ২২-২৬ জন পরিযায়ী শ্রমিককে আর রাস্তায় না খেতে পেয়ে মরতে হত না , হেঁটে কিংবা সাইকেলে করে ১০০০/১২০০ কিমি পথ পাড়ি দিতে হত । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করোনা মোকাবিলায় প্রথমেই সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন , মমতার পথেই শেষ পর্যন্ত হাঁটলেন মোদী । তবে অনেকটা দেরি হয়ে গেছে ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment