অন্যান্য 

নিজামউদ্দিনের মারকাজ এবং তবলিগ জামাত নিয়ে মিথ্যাচার সমানে চলছে

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : নিজামউদ্দিন মারকাজ নিয়ে সমানে মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে মিডিয়া । এমনকি এনডিটিভির মত গণমাধ্যমও এই মিথ্যাচারে সামিল হয়েছে । করোনা ভাইরাসে আক্রান্তে সংখ্যার বিচারে ৩০ শতাংশ হল তবলিগ জামাতের লোক । কিন্ত তা যদি হয় তাহলে প্রশ্ন উঠবে আক্রান্তের সংখ্যা সেই অনুপাতে বাড়েনি কেন ? দ্বিতীয় অভিযোগ আরও মারাত্মক তবলিগ জামাতের যেসব লোক দিল্লি সংলগ্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন তাঁরা নাকি নার্সদের সঙ্গে অশ্লীল আচরণ করেছেন । আবার কোনো কোনো সংবাদ মাধ্যম লিখেছে তারা নাকি যত্রযত্র থু থু ফেলে জীবাণু ছড়াচ্ছে ? স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সামনে এই ঘটনা ঘটেছে ।

এর বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশ সরকার কড়া পদক্ষেপ করেছে বলেও সংবাদ । এক চিকিৎসকের অভিযোগের ভিত্তিতে তবলিগের লোকেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । আবার এই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে  অসমে । সেখানে একই ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার । মাঝে ‘করোনার আতুর ঘর নিজামউদ্দিন ’হাওয়া গেছে ।

এবার মিডিয়ার আলোচনার বিষয় হয়েছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কিংবা কোয়ারান্টিনে থাকা তবলিগের জামাতের প্রচারকদের আচার –আচরণ । তাঁরা নাকি এত খারাপ ব্যবহার করছে যে নার্সরা তাদের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছে । কোন জায়গা থেকে অভিযোগ আসছে  যোগীর রাজ্য উত্তরপ্রদেশ এবং অসম থেকে । দুটি বিজেপি শাসিত রাজ্য । এছাড়া দেশের প্রায় সবকটি রাজ্য থেকে নিজামউদ্দিনের মারকাজে গিয়েছিলেন যে জামাতের প্রচারকরা তারাও দেশের বিভিন্ন রাজ্যের হাসপাতালে ভর্তি আছেন কিংবা কোয়ারন্টিনে আছেন । নিজামউদ্দিন থেকে যাওয়া জামাতিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যে রাজ্যে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে , সেই রাজ্যটি হল তামিলনাড়ু । তামিলনাড়ু সরকার এখনও জামাতিদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো অভিযোগ করেনি । সেখানে বেশ কয়েক জন কোয়ারান্টিনে রয়েছে বলে জানা গেছে ।

গুজরাট , মধ্যপ্রদেশ , দিল্লি ,পঞ্জাব , কেরল , কর্ণাটক  এবং পশ্চিমবাংলা থেকেও বহু তবলিগ জামাতিরা নিজামউদ্দিন মারকাজে গিয়েছিলেন । পশ্চিমবাংলায় তো কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এখনও পর্যন্ত নেই । এমনকি নিউটাউন হজ টাওয়ারে যাদেরকে রাখা হয়েছে তাদের মধ্যে করোনা ভাইরাস পজিটিভ পাওয়া গেছে এই তথ্য প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি ।  হলদিয়ায় যে ব্যক্তিটির শরীরে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে বলে সংবাদ বেরিয়েছে তা কতটা সত্য সেটা আরও দুদিন পর স্পষ্ট হবে ।

কিন্ত আমার প্রশ্ন খুব স্পষ্ট কেন তবলিগ জামাতকে টার্গেট করা হচ্ছে ? তবলিগ জামাতের বিরুদ্ধে যে অশ্লীলতার অভিযোগ তোলা হচ্ছে তার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে । কারণ তবলিগ জামাত অশ্লীলতা মুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করেন । আর নিজামউদ্দিন মারকাজে যারা যোগ দিয়েছেন তাদের প্রশিক্ষণটা সাধারণ জামাতিদের চেয়ে উচ্চমানের । সুতরাং তারা অশ্লীল আচরণ করবেন এটা বিশ্বাসযোগ্য নয় ! একইসঙ্গে এটাও বলা প্রয়োজন এই যে তবলিগ জামাতের সঙ্গে যুক্ত লোকেরা পরযায়ী শ্রমিক নন , তাঁরা সকলেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি । শিক্ষক ,অধ্যাপক , চিকিৎসক , উকিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের আমলারাও তবলিগের জামাতের সঙ্গে যুক্ত । তাই সমাজের এই গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সাধারণ  মানুষদের মত জীবন-যাপন করে বলে তাঁদেরকে অবাঞ্ছিত মনে করবেন না ।

জাতীয় এক তদন্তমূলক সংবাদ সংস্থা সম্প্রতি খবর প্রকাশ করেছে যে ,লকডাউন ঘোষণার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের কয়েকটি সংবাদ-মাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন । সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সব সংবাদ-মাধ্যমের সম্পাদকদের অনুরোধ করেছিলেন, লকডাউনের সময় কোনো নেগেটিভ খবর করবেন না । পজেটিভ খবরে গুরুত্ব দেবেন । তাই লকডাউনের জেরে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক রাস্তায় অনাহারে থাকলেও সেটা সংবাদ-মাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি । আবার রাস্তায় অনাহারে হেঁটে বাড়ি ফিরতে গিয়ে কমকরে ২২ জন শ্রমিকের মৃত্যু নিয়েও তথা কথিত মিডিয়ার বিবেক নড়ে ওঠেনি । কিন্ত নিজামউদ্দিনকে সামনে রেখে বিবেকের সওদাগর হয়ে হিন্দু-মুসলিম বিদ্বেষ ছড়াতে এগিয়ে এল গোদী মিডিয়া।

সম্প্রতি বিজেপি দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সভাপতি জেপি নাড্ডা বলেছেন , তবলিগ জামাত নিয়ে বিদ্ধেষ প্রচার বন্ধ করতে । তিনি বলেছেন , এখন আমরা ক্ষমতাসীন দল , দেশের সামনে করোনা বিপদ এসেছে , সম্মিলিতভাবে তার মোকাবিলা করতে হবে । অতএব দলের নেতারা যেন কোনো রুপ বিদ্বেষমূলক প্রচার না চালান বলে জেপি নাড্ডা নির্দেশ দিয়েছেন । জেপি নাড্ডার নির্দেশের পর বিজেপির প্রথম সারির নেতারা আর কোনো বিদ্বেষমূলক বিবৃতি দেয়নি । কিন্ত বিজেপি ঘনিষ্ঠ মিডিয়াগুলি নিজামউদ্দিনকে টার্গেট করে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে । তবে মিথ্যাচার একটা সময় ধরা পড়ে যাবে , কিন্ত ততক্ষণে দেশের যে ক্ষতি হবে তা রোখার সাধ্য আর কারও থাকবে না । ( চলবে )


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment