জেলা 

ইসরাত জাহানকে প্রাণে মারার হুমকি কী সত্যিই দেওয়া হয়েছে ? জানতে চান ক্লিক করুন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : মুসলিম বাড়ির মেয়ে হয়ে হিজাব পড়ে হনুমান চালিসা পাঠ করেছেন ফলে পাড়ায় তাকে একঘরে করে দেওয়া হল । তিন তালাক নিয়ে অন্যতম আন্দোলনকারী ইসরাত জাহানকে প্রানে মারার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

ইসরত জহান গোলাবাড়ি থানা এলাকার নন্দ ঘোষ রোডে সন্তানদের নিয়ে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন তিনি। গোলাবাড়ি থানায় করা অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার বিজেপির একটি সভায় তিনি হিজাব পরে হনুমান চালিসা পাঠ করেন। এর পর বুধবার সকালে তাঁর বাড়িতে চড়াও হন প্রচুর মানুষ। সেই দলে তাঁর দেওর মুস্তাফা আনসারি এবং ভাড়াবাড়ির মালিক মুনাজির হোসেন ছিলেন। তাঁরা সকলে মিলে ইসরতকে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ। তাঁকে ভাড়াবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলার পাশাপাশি প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ইসরত।

বৃহস্পতিবার ইসরত জানান, বুধবার সকালে তিনি ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে ফিরছিলেন। বাড়িতে ঢোকার মুখে তিনি দেখেন, কয়েকশো মানুষ হাজির হয়েছে সেখানে। ইসরতের কথায়, ‘‘বাড়ির সামনে দেখি কয়েকশো মানুষের ভিড়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আমার দিকে আঙুল তুলে বলে, এর নাম ইসরত জহান।” এর পরেই তাঁর দেওর এবং ফ্ল্যাটের মালিক ইসরতের উদ্দেশে গালিগালাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ। ইসরত বলেন, ‘‘ওঁরা আমাকে হুমকি দিতে থাকেন। আমার দিকে আঙুল তুলে ওঁরা জনতার সামনেই বলেন, আমি হিজাব পড়ে হনুমান চালিসা পাঠ করেছি। এর পরেই সমবেত জনতা আমাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে। আমাকে প্রাণে মারার হুমকি দেয়।’’ ইসরত জানান, সন্তান এবং নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি আপাতত এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করে রয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁরা ইসরতের অভিযোগ পেয়েছেন। এ নিয়ে তদন্তও শুরু হয়েছে। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট সূত্রে খবর, গত মঙ্গলবার ডবসন রোডে বিজেপি হনুমান চালিসা পাঠের আয়োজন করে। সেই অনুষ্ঠান ঘিরে প্রথম থেকেই উত্তেজনা ছিল। পুলিশের দাবি, ওই অনুষ্ঠানের কারণে রাস্তায় যাতে জ্যাম না হয়, তাই জায়গাটি গার্ড রোল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। কিন্তু আয়োজকরা তার বিরোধিতা করেন। সেই সময় ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক দফা পুলিশের সঙ্গে আয়োজকদের ধস্তাধস্তি হয়। সেই ঘটনা যদিও বেশি দূর এগোয়নি।

ওই অনুষ্ঠানে ইসরত হিজাব পরে হনুমান চালিসা পাঠ-আবৃত্তি করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমাদের দেশ ধর্ম নিরপেক্ষ। আমি কোন ধর্মের বই পাঠ করব, তা নিয়ে কেউ ফতোয়া দিতে পারেন না। আমাকে বারণও করতে পারে না।”

স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, ইসরতের পারিবারিক গন্ডগোলকে বিজেপি পরিকল্পিত ভাবে রাজনৈতিক রং লাগিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে।

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment