কলকাতা 

বিধাননগরের মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেই সব্যসাচীর তোপ মমতাকে

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিধাননগর মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন সব্যসাচী দত্ত । এরপরেই সাংবাদিক সম্মেলন করে সব্যসাচী দত্ত জানিয়ে দেন অসততার আপোষ করতে পারছিলাম বলেই পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিলাম ।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে নাগাদ বিধাননগরের পুর ভবনেই সাংবাদিক বৈঠক করেন সব্যসাচী দত্ত। চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েই সব্যসাচী দত্ত সাংবাদিক সম্মেলনে করেন। বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের আন্দোলনে সামিল হয়ে বিদ্যুৎ ভবনের গেটে ভাষণ দেওয়ার পর থেকেই যে দলে তাঁকে নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে, সে কথা মনে করিয়ে দেন সব্যসাচী। তার পরে জানান যে, তিনি মুখ বন্ধ রাখবেন না, যত দিন বাঁচবেন, তত দিনই মেহনতি এবং দুর্বল মানুষের হয়ে কথা বলবেন।

রাজ্য সরকারকে এ দিন ফের আক্রমণ করেছেন তিনি। ছাড়েননি খোদ মুখ্যমন্ত্রীকেও। বিধাননগর পুর এলাকায় বিভিন্ন অসাধু কার্যকলাপে তিনি বাধা দিচ্ছিলেন বলে সব্যসাচী এ দিন জানান। জলা ভরাট এবং অবৈধ নির্মাণ রুখতে তিনি সক্রিয় হয়েছিলেন বলেও জানান। সব্যসাচীর দাবি, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগকে তো বটেই, খোদ মুখ্যমন্ত্রীকেও তিনি জানিয়েছিলেন বি‌ষয়গুলি। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে কোনও সাহায্য পাননি। অসততার সঙ্গে আপস করতে পারব না— বলেন পদত্যাগ করলাম ।

সব্যসাচী আরও বলেন যে, নির্বাচিত পুরপ্রতিনিধি এবং পুরপ্রতিনিধিদের দ্বারা নির্বাচিত মেয়র হওয়া সত্ত্বেও তিনি পুর আইনকে রক্ষা করতে পারছিলেন না, তাই মেয়র পদে থাকার কোনও অর্থ হয় না। তাঁকে যে অনাস্থা বৈঠকের নোটিস দেওয়া হয়েছিল, সেই নোটিস কলকাতা হাইকোর্টে খারিজ হওয়ার তাঁর নৈতিক জয় হয়েছে বলে সব্যসাচী এ দিন দাবি করেন।

রাজ্যের পুরমন্ত্রী তথা তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষনেতা ফিরহাদ হাকিম আগেই সব্যসাচীকে ফোন করে মেয়র পদ ছাড়তে বলেছিলেন বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছিল। মেয়র পদ শেষ পর্যন্ত যখন ছাড়লেনই, তখন ফোন পাওয়ার পরেই ছাড়লেন না কেন? এমন প্রশ্নের সম্মুখীনও এ দিন হতে হয় বিধাননগরের সদ্যপ্রাক্তন মেয়রকে। সব্যসাচী বলেন, ‘‘মেয়রটা তো ফোনে ফোনে হইনি। কেউ ফোন করে দিল আর আমি মেয়র হয়ে গেলাম, এমন তো হয়নি। তাই ফোনে ফোনে মেয়র পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নও ওঠে না।’’

গতকাল অর্থাৎ বুধবারই সব্যসাচী দত্তকে সাময়িক স্বস্তি দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। তাঁর বিরুদ্ধে কাউন্সিলরদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বিধাননগরের পুর কমিশনার যে বৈঠক ডেকেছিলেন, সেই বৈঠকের নোটিসকে বুধবার খারিজ করে দেন বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। নোটিসের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সব্যসাচী দত্তই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। হাইকোর্ট জানায় নোটিস অবৈধ।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment