কলকাতা 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতিসত্ত্বার আত্মনিয়ন্ত্রণের যে অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করেছে তা এক কথায় অতুলনীয় : সরদার আমজাদ আলী

শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিশ্বের কাছে এক অতুলনীয় নজীর হয়ে আছে । ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে যে বাঙালি জাতিসত্তা লালিত হয়েছিল তার পূর্ণ-বিকাশ ঘটেছিল ১৯৭১-র গণতান্ত্রিক আন্দোলনে । গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ ধরে যখন ক্ষমতা দখলের পথে বাঙালিরা তখনই ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বাঙালিদের উপর বেয়নট চালানো হয়েছিল । সেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা যুদ্ধে পরিণত হয়েছিল । সোমবার কলকাতা স্থিত বাংলাদেশ উপদুতাবাসে মুক্তিযুদ্ধের কালরাত্রি বিষয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন সাংসদ ও বিশিষ্ট আইনজীবী সরদার আমজাদ আলী এই মন্তব্য করেন ।

তিনি বলেন , পৃথিবীর বহুদেশে ভাষা নিয়ে আন্দোলন হয়েছে , সাইপ্রাসে হয়েছে , কাণাডাতে হয়েছে , আয়ারল্যান্ডে হয়েছে কিন্ত ভাষাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জাতীয়তাবাদ শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার যুদ্ধে গিয়ে পৌছায়নি । আসলে ১৯৭১-র মুক্তিযুদ্ধ বাঙালিদের আত্মনিয়ন্ত্রনের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল । আর এই যুদ্ধে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেই মুজিবর রহমানকেও অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব বলা যেতে পারে । তাঁর আন্দোলনের সঙ্গে একমাত্র নেলসন ম্যান্ডেলার আন্দোলনের তুলনা করা যেতে পারে ।

বিশিষ্ট চিন্তাবিদ সরদার আমজাদ আলী আরও বলেন , ভাষার জন্য  বা শুধুমাত্র মাতৃভাষার জন্য এত বড় গণআন্দোলন বিশ্বের কোথাও হয়নি । পাকিস্থান রাষ্ট্র স্থাপিত হয়েছিল একটি বিশেষ ধর্মীয় গোষ্ঠীর জন্য । কিন্ত মহম্মদ আলী জিন্নাহ যেদিন ঘোষণা করলেন পাকিস্থানের জাতীয় ভাষা হবে উর্দু সেদিন পূর্ব-পাকিস্থানের বাঙালি মুসলিমরা গর্জে উঠেছিল । একই ধর্মের মানুষ হওয়া সত্ত্বে সেদিন মাতৃভাষার স্বীকৃতির দাবিতে বাঙালি মুসলিমরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছে  এবং ভাষার জন্য আত্ম বলিদানও করেছে । এই ইতিহাস শুধু মাত্র বাঙালিদেরই আছে বলে আমজাদ সাহেব মন্তব্য করেন ।

তিনি বলেন , মাতৃভাষাকে স্বীকৃতির দাবিতে যে গণ-আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল অধুনা বাংলাদেশে তা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার কারণে শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার যুদ্ধে পরিণত হয় । আর বাংলাদেশ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত বাঙালি জাতি সত্ত্বা বিশ্বে মাথা উচুঁ করে নিজেদের পরিচয় করে জাহির করতে পেরেছে ।

এদিনের সভায় বিশিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের দুই প্রবীণ সাংবাদিক দিলীপ চক্রবর্তী ও সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত , বাংলাদেশের  ডেপুটি হাইকমিশনার সহ অন্যান্য আধিকারিকরা ।


শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment