সাড়ে তিন বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতন! দত্তপুকুরে গ্রেফতার অভিযুক্ত
উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠল চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। শিশুকে পাশের বাড়ির ছাদে নিয়ে গিয়ে হেনস্থা করেন। পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিতে অস্বীকার করছিল বলেও দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যেরা। ওই শিশুকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য বারাসত মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না-থাকায় স্থানীয়েরা বিক্ষোভ দেখান।
দত্তপুকুর থানা এলাকার নীলগঞ্জ ফাঁড়ির অন্তর্গত সুভাষনগরে ভাড়া থাকে নির্যাতিত শিশুর পরিবার। কয়েক মাস আগেই তারা সেখানে বাড়ি ভাড়া নিয়ে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, পাশের বাড়ির ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ওই শিশুকে। বৃহস্পতিবার তাকে নিয়ে তার মা বাপের বাড়ি চলে যান। শুক্রবার বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যেরা জানতে পারলে উত্তেজনা ছড়ায়। ওই দিনই বিকেলে মা এবং শিশুকে ফিরিয়ে আনা হয় সুভাষনগরে।
স্থানীয়েরা জানিয়েছেন, নীলগঞ্জ ফাঁড়িতে অভিযোগ জানাতে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিতে চায়নি। পরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম অর্জুন সর্দার। তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন অভিযুক্ত। শনিবার তাঁকে বারাসত আদালতে হাজির করানো হবে।
ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ার পর ওই শিশুকে হাসপাতালে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারাসত মেডিক্যাল কলেজে দীর্ঘক্ষণ তাঁদের অপেক্ষা করতে হয়। কারণ, ওই সময় সেখানে একজন মাত্র মহিলা চিকিৎসক ছিলেন। তিনি অস্ত্রোপচারে ব্যস্ত ছিলেন। তাই প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগেছে স্বাস্থ্যপরীক্ষায়। এতে স্থানীয়েরা ধৈর্য হারিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বেশ কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। তবে এলাকায় ক্ষোভ রয়েছে। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার।

