আগমনীর সুরে বর্ণময় উৎসব, সাংবাদিকতার পাঠে শারদ বন্দনা কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে
এস রোজলিন: কলকাতা:শারদোৎসবের আবহে মেতে উঠল কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের জার্নালিজম সার্টিফিকেট কোর্স। আগমনী গান, নাটক, এফএম পরিবেশনা, গীতিআলেখ্য ‘ভোরের আগমনী’, ‘জননী এসেছে দ্বারে’, নৃত্যালেখ্য ‘দেবী অমৃতময়ী’ ও নাটক ‘ফিরে আসুক সেই পুজো’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে অনুষ্ঠিত হল বর্ণময় আগমনী উৎসব।
এদিন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কল্লোল পাল। তিনি বলেন সাংবাদিকরা যে শব্দ ব্যবহার করবেন তা যাচাই করা, প্রেক্ষাপট বিচার করা দরকার। সংবাদটা সমাজে কী প্রভাব ফেলছে তা বিচার করে সংবাদ পরিবেশন করা উচিত।” একইসঙ্গে তিনি জার্নালিজম সার্টিফিকেট কোর্সের নবম ব্যাচের পড়ুয়াদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক পার্থপ্রতিম সরকার বলেন, “জার্নালিজমের ক্ষেত্রে ইনফরমেশন কালেকশন, ভেরিফিকেশন ও প্রেজেন্টেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোনও সংবাদ পরিবেশনের আগে, তা অডিও, লিখিত বা ভিডিও যাই হোক না কেন, প্রথমেই দেখতে হবে খবরটির সত্যতা। সমাজের ওপর আমাদের দায়িত্ব ভুলে গেলে চলবে না।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রসার ভারতীর কনসাল্টিং এডিটর প্রসেনজিৎ বক্সী। তাঁর বক্তব্য, “কোভিডের পরে ডিজিটাল মাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে খবরের কাগজের অস্তিত্ব সংকটে। নতুন প্রজন্মকে এই পরিস্থিতিতে সংবাদকে আরও শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রয়োগ করতে হবে। কেউ যেন না ভাবেন সাংবাদিকতার শেষ কথা সোশাল মিডিয়া।” আকাশবাণী কলকাতার অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (নিউজ) সন্দীপন দাশগুপ্ত বলেন, “সমাজ কী ভাবছে সাংবাদিকরা তাই তুলে ধরছেন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মাধ্যমে। তবে দ্রুততার সঙ্গে খবর পৌঁছে দেওয়ার ইঁদুরদৌড়ে প্রায়ই যাচাইহীন বা পক্ষপাতমূলক তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। তাই সততা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা।”
এদিনের উৎসবে সবচেয়ে নজর কাড়ে ‘গানে গানে উত্তম আনন্দে’। উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এফএম ফোন-ইন লাইভ পরিবেশনা জীবন্ত হয়ে ওঠে।
কোর্সের ডিরেক্টর অধ্যাপক সুখেন বিশ্বাস জানান, “এই কোর্স এখন আন্তর্জাতিক স্তরেও ছড়িয়ে পড়েছে। অসম, ত্রিপুরা, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ছাড়িয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকেও এই কোর্সে অংশ নিচ্ছেন পড়ুয়ারা। সাংবাদিকতার মতো পেশাভিত্তিক কোর্স পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”
শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ ছিল না আয়োজন। সাংবাদিকতার ব্যবহারিক প্রশিক্ষণকেও উৎসবের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। প্রায় ৪০০ ছাত্রছাত্রী ও গবেষকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও নান্দনিক। সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক নন্দিনী বন্দ্যোপাধ্যায় ও ড. শ্যামশ্রী বিশ্বাস সেনগুপ্ত। উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সঞ্জিৎ মণ্ডল, ড. তুষার পটুয়া, ড. পীযূষ পোদ্দার, ড. সীমা সরকার সহ বাংলা বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বিশিষ্টজনেরা।

