জেলা 

কুলতলির পিছিয়ে পড়া গ্রামে পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা ‘বিহান’-এর উদ্যোগে 

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : সমুদ্রের নোনা জলের কারনে সুন্দরবনের পিছিয়েপড়া গ্রামগুলিতে পরিস্রুত পানীয় জলের সঙ্কট দীর্ঘদিনের। সুন্দরবনের খাঁড়ি-সংলগ্ন এলাকায় পরিস্রুত পানীয় জলের সঙ্কট মেটাতে মহালয়ার পুণ্যলগ্নে মানবিক উদ্যোগ নিল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘বিহান-দ্য নিউ বিগিনিং’। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির শ্যামনগর মা সারদা বিদ্যামন্দিরে বিহানের উদ্যোগে ১২০০ ফুট গভীর নলকূপ চালু হল মহালয়ার দিন থেকে। এই জলপ্রকল্পের সম্পূর্ণ আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বিড়লা কর্পোরেশন লিমিটেড তাদের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির আওতায়।

শ্যামনগর মা সারদা বিদ্যামন্দিরের প্রধান শিক্ষক কমল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, তাদের পিছিয়ে পড়া গ্রামে এই স্কুল কোনো সরকারী সাহায্য পায়না। পানীয় জলের খুবই সমস্যা ছিল। নতুন নলকূপ চালু হওয়ায় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি উপকৃত হবেন এলাকার বহু বাসিন্দা। পানীয় জলের সমস্যায় জর্জরিত এই অঞ্চলে নিরাপদ জলের ব্যবস্থা স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি এনে দেবে বলে মনে করছেন গ্রামবাসীরা।

বিহানের সম্পাদক সৌমেন দাস জানান, মহালয়া শুধু দুর্গাপুজোর আগমনী বার্তা নয়, মানুষের জীবনেও সুস্থতা ও সুদিনের বার্তা নিয়ে আসুক, এটাই তাঁদের কামনা। নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ জনস্বাস্থ্যের উন্নতির পথে একটি ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সংস্থার অন্যতম সদস্য অর্ণব সাহা জানান, কুলতলিতে এই জলপ্রকল্প বিহানের ধারাবাহিক সমাজসেবামূলক কাজেরই একটি অংশ। এর আগে এলাকায় শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন, বস্ত্র বিতরণ-সহ নানা সামাজিক কর্মসূচি পালন করেছে সংস্থা। পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পুরুলিয়ার একাধিক স্কুলের পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও কাজ করে চলেছেন তারা।

এ দিন জলপ্রকল্পের উদ্বোধনের পাশাপাশি পুজোর উপহার হিসেবে গ্রামের ২০০র বেশি মহিলার হাতে নতুন শাড়ি তুলে দেওয়া হয়। উৎসবের প্রাক্কালে পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং বস্ত্র বিতরণের এই উদ্যোগে খুশি এলাকার মানুষ। মহালয়ার আবহে বিহানের এই কর্মসূচি সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক মানবিক বার্তা তুলে ধরল।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ