বুকের হাড় না কেটেই চারটি বাইপাস, বিরল সাফল্য কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালের
এস রোজলিন:কলকাতা: হৃদযন্ত্রের তিনটি প্রধান করোনারি ধমনিতেই গুরুতর ব্লকেজ, তার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলএডি (লেফট অ্যান্টেরিয়র ডিসেন্ডিং) ধমনিও আক্রান্ত। এমন জটিল অবস্থায় সাধারণত বুকের হাড় কেটে ওপেন হার্ট সার্জারিই একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেই ধারণা ভেঙে বুকের হাড় না কেটেই চারটি বাইপাস গ্রাফট করে বিরল সাফল্য পেল নিউ আলিপুরের বিপি পোদ্দার হাসপাতাল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মধ্য চল্লিশের রাজেন দাসের (নাম পরিবর্তিত) ট্রিপল ভেসেল ডিজিজ ধরা পড়েছিল। অর্থাৎ, হৃদপেশিতে রক্ত সরবরাহকারী তিনটি প্রধান ধমনির একাধিক জায়গায় গুরুতর ব্লকেজ ছিল।
এই জটিল পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা বেছে নেন মিনিম্যালি ইনভেসিভ করোনারি আর্টারি বাইপাস সার্জারি, সংক্ষেপে এমআইসিএস-সিএবিজি। পাঁজরের মাঝে ছোট একটি পথ তৈরি করেই সেরে ফেলা হয় অস্ত্রোপচার।
অস্ত্রোপচার করেন সিটিভিএস সার্জন ডাঃ মহম্মদ রশিদ জেয়া আয়ুবি ও তাঁর টিম। বাঁ ও ডান — দুই করোনারি সিস্টেমেই মোট চারটি গ্রাফট বসিয়ে হৃদযন্ত্রে রক্ত চলাচলের বিকল্প পথ তৈরি করেন তাঁরা।
চিকিৎসকদের দাবি, মিনিম্যালি ইনভেসিভ পদ্ধতিতে চারটি গ্রাফট করা অত্যন্ত কঠিন। বুক না খোলায় অস্ত্রোপচারের জায়গা সীমিত থাকে, দৃশ্যমানতাও কম। বিশেষ করে হৃদযন্ত্রের পাশে ও নীচের দিকে থাকা ধমনিগুলিতে পৌঁছে নিরাপদে গ্রাফট বসানো বড় চ্যালেঞ্জ। ডাঃ আয়ুবির কথায়, “গ্রাফটের সংখ্যা এবং হৃদযন্ত্রের দূরবর্তী অঞ্চলে পৌঁছনোই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
হাসপাতালের গ্রুপ অ্যাডভাইজর সুপ্রিয় চক্রবর্তী জানান, তাঁদের হাসপাতালে প্রতি মাসে ১০০-র বেশি এমআইসিএস সার্জারি হলেও চারটি গ্রাফটের এই অস্ত্রোপচার পূর্ব ভারতে প্রায় নজিরবিহীন। এই ধরনের অত্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচারে আধুনিক পরিকাঠামোর পাশাপাশি প্রয়োজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ সার্জিক্যাল টিমের।

