কলকাতা 

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দশ বিধায়কের সদস্যপদ খারিজ হতে চলেছে! দশম তফসিল মেনে স্পিকারকে সিদ্ধান্ত নিতে বলল সুপ্রিম কোর্ট

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অরূপ রায় ফিরহাদ হাকিম সন্দীপন সাহা সহ ১০ বিধায়কের সদস্যপদ খারিজ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়। সোমবার সেই মামলার নিষ্পত্তি করে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছেন আগামী ৮ই অক্টোবর এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সংবিধানের দশম তাফসিলকে মর্যাদা দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assebly Election) মিটে যাওয়ার মাসখানেকের মধ্যেই উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একঝাঁক বিধায়ক দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় বিধায়ক সংখ্যা সঙ্গে নিয়ে তাঁরা মূল তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক ও তহবিলের ওপর দাবি জানান। এই ঘটনার পর গত ৮ জুলাই ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত-সহ ১০ বিধায়কের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ করে পদ বাতিলের আর্জি নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

তবে দীর্ঘ দিন অতিক্রান্ত হলেও স্পিকারের দরবারে বিধায়ক পদ খারিজ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। এমনকি এরই মাঝে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদেও স্বীকৃতি দেওয়া দেওয়া হয়। স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিলম্ব দেখে তড়িঘড়ি শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন শোভনদেব।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন দলের সাংসদ তথা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার বর্ষীয়ান সাংসদ কপিল সিবাল। মামলাটির শুনানি শেষে বিচারপতিরা সরাসরি হস্তক্ষেপে অনীহা প্রকাশ করে জানান, বিধায়কদের পদ খারিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনানুগ অধিকার স্পিকারের কোর্টেই ন্যস্ত। দলত্যাগ বিরোধী আবেদনের তিন মাসের বিধিবদ্ধ সময়সীমা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আদালত নির্দেশ দেয়, আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যেই বিধানসভার স্পিকারকে এই আর্জির ফয়সালা করতে হবে।

আদালতের এই রায় প্রসঙ্গে আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শীর্ষ আদালত মামলাটির নিষ্পত্তি করে স্পিকারকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব দিয়েছে। আবেদন পেশের পর তিন মাসের যে আইনি সময় থাকে, সেই হিসাব মেনেই ৮ অক্টোবরের মধ্যে বিধানসভার স্পিকারকে এই ১০ জন বিধায়কের ভাগ্য নির্ধারণ করতে হবে।”


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ