উত্তর-দক্ষিণ কবিতার উড়ান
নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতার ‘অ’ সাহিত্য পত্রিকার ২০২৬-২০২৭ সালে সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ উপলক্ষে সারা বছর জুড়ে বাংলার বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে সাহিত্য পরিক্রমা উদযাপিত হচ্ছে। পঞ্চাশ বছর আগে ১৯৭৬ সালে কলকাতার কলেজ স্ট্রিট কফি হাউসের টেবিল থেকে কবি ও সাহিত্যিক মাননীয় দেবাঞ্জন চক্রবর্তী’র সম্পাদিত ‘অ’ সাহিত্য পত্রিকার সূচনা হয়। গত ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার তার তৃতীয় অনুষ্ঠানটি উত্তরবঙ্গের কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার দুটি জেলাকে নিয়ে কোচবিহার সাহিত্য সভা প্রেক্ষাগৃহ, টেম্পল স্ট্রিট, কোচবিহার-এ “উত্তর-দক্ষিণ কবিতার উড়ান” নামক উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। অনুষ্ঠান শুরুর প্রথমেই উত্তরবঙ্গ ও কলকাতার কবি লেখকদের প্রকাশিত বই ও পত্র পত্রিকা দিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানের উদ্বোধন সংগীত পরিবেশন করেন কলকাতার বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী তিসা রায়।
নতুন প্রজন্মের দুই তরুণ কবি কোচবিহারের শ্রেয়সী সরকার ও আলিপুরদুয়ারের স্বাগতা বিশ্বাসের প্রদীপ প্রজ্বলন ও স্বরচিত কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে এই গৌরবময় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হোলো।
এই অনুষ্ঠানে পত্রিকার সম্পাদক মাননীয় দেবাঞ্জন চক্রবর্তী, এই সাহিত্যগোষ্ঠী মানুষের কাছে পৌঁছাতে চেষ্টা করছে বলে বক্তব্যে দাবি করেন। সভাপতি বিশিষ্ট গান্ধী গবেষক ও সমাজ সচেতক আলিপুরদুয়ারের বর্ষীয়ান মাননীয়ান পরিমল দে তাঁর বক্তব্যে, কলকাতার সংস্থা উত্তরবঙ্গে এসে দুই জেলাকে নিয়ে সাহিত্যের যে গৌরবময় কাজ করে গেলেন, তা একদিন ইতিহাসে লেখা হবে বলে দাবি করেন।
এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি তাপস রায় এবং বিশেষ অতিথি কবি ও শিশু সাহিত্যিক আলিপুরদুয়ারের মাননীয়া সঞ্চিতা দাশ।
এদিন কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার কবি ও ছড়াকারদের লেখা নিয়ে ‘অ’ সাহিত্য পত্রিকা কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার এই দুটি জেলার পৃথক সংখ্যা প্রকাশ করল। এছাড়াও ‘অ’ সাহিত্য পত্রিকার ৫০ বছর পূর্তির সম্মাননা প্রদান করা হয় মোট ছয়জন সাহিত্য ব্যক্তিত্বকে। কোচবিহার জেলার তিনজন হলেন – বিশিষ্ট লেখক ও সাহিত্য সংগঠক গোকুল চন্দ্র সরকার, কবি মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস ও সুবীর সরকার। এবং আলিপুরদুয়ারের অপর তিনজন – বিশিষ্ট কবি মাননীয় উত্তম চৌধুরী, বিশিষ্ট কবি মাননীয়া মধুমিতা চক্রবর্তী ও বিশিষ্ট কবি মাননীয়া সুলেখা পন্ডিত।
অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা পাঠ ও অন্যান্য সৃজনশীল উপস্থাপনায় ছিলেন – দেবর্ষি চক্রবর্তী, শিশুশিল্পী বোধিদীপ্ত দে, হাসি বসু, অমল নায়েক প্রমুখ আরও অনেকেই।
বাঁকুড়ার বিশিষ্ট লোকসংগীত শিল্পী মনসা রাম সাইনি সংগীত পরিবেশনের সাথে কোচবিহারের বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পীর মাধুরী বরগাঁও-এর নৃত্য দুই বঙ্গকে সুর ও ছন্দে এক করে দিয়েছিল। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী অনিমেষ কুমারের পুরানো দিনের সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণের অপরূপ মেলবন্ধন ঘটায়। এবং বিশিষ্ট বাঁশিবাদক অরূপ চ্যাটার্জীর বাঁশিতে মায়াময় সুর পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন আলিপুরদুয়ারের বিশিষ্ট কবি ও বাচিকশিল্পী অম্বরীষ ঘোষ ও মালদার বিশিষ্ট কবি ও বাচিকশিল্পী জুমেলী সরকার। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাহিত্য-সংগঠক হরিশঙ্কর কুণ্ডু।

