বৈবাহিক ধর্ষণ অপরাধ কিনা সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার শুধুমাত্র সংসদের ,আদালতের নয় জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট
বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে কি না, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের এক্তিয়ার রয়েছে একমাত্র সংসদেরই। সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। বুধবার শীর্ষ আদালতে বৈবাহিক ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে একথা জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার।
বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসাবে গণ্য হোক, এই দাবিতে বিভিন্ন সময়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা হয়েছিল। এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের শুনানিতে এই বিষয়ে কেন্দ্রের অবস্থান জানান সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি বলেন, বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে কি না, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের এক্তিয়ার রয়েছে শুধু সংসদের। সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
বিচারপতি বাগচী বলেন, “(বৈবাহিক সম্পর্কে) ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনও মহিলা যৌন মিলনের শিকার হলে, তিনি যে নির্যাতিত তাতে কোনও সন্দেহ নেই। আমরা নির্যাতিতদের সুরক্ষা দেব। এখন প্রশ্ন একটাই, রাষ্ট্র এটিকে ধর্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করে কি না।” বিচারপতি বাগচীর পর্যবেক্ষণ, বিয়ের অর্থ কোনও নারীর ‘স্বাধীন সত্তার বিলুপ্তি’ হতে পারে না। আদালত জানিয়েছে তারা দু’টি বিষয় খতিয়ে দেখবে। প্রথমত, বৈবাহিক ধর্ষণ সংক্রান্ত ব্যতিক্রমী বিধানটি বহাল থাকা সত্ত্বেও কোনও আইনি পদক্ষেপ বা বিচারপ্রক্রিয়া চালানো সম্ভব কি না। এবং দ্বিতীয়ত, ওই ব্যতিক্রমী বিধানটি সাংবিধানিকভাবে বৈধ কি না।
উল্লেখ্য, নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পুরনো দণ্ডবিধিতে বৈবাহিক ধর্ষণ দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হয়নি। উভয় ক্ষেত্রেই বিষয়টিকে ব্যতিক্রমের আওতায় ফেলা হয়েছে। বিএনএস-এর ৬৩ ধারার ব্যতিক্রম ২ (সাবেক দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার ব্যতিক্রম ২) অনুযায়ী, কোনও স্ত্রীর বয়স ১৮ বছরের কম না-হলে তা ধর্ষণ বলে গণ্য করা হবে না।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জানিয়েছে, তিন সপ্তাহ পর প্রতি বুধ এবং বৃহস্পতিবার করে বৈবাহিক ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলাগুলির শুনানি হবে।

