পশ্চিম মেদিনীপুর ও আরামবাগের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! ঘোষণা করলেন বড় পদক্ষেপের
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা হুগলীর আরামবাগের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার সকালে আকাশপথে সবং-সহ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতি আকাশপথে পরিদর্শন করেন তিনি। পরে সবঙের বিডিও অফিসে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জেলার সকল শীর্ষ আধিকারিক এবং মন্ত্রী-বিধায়কদের নিয়ে এক দীর্ঘ বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠকেই প্রাণিসম্পদ বিকাশ এবং মৎস্যমন্ত্রী রাজেশকে দায়িত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু বলেন, ‘‘রাজেশ মাহাতো স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁকে আমি রেখে দিয়ে গেলাম। সবাইকে বাড়ি না ফিরিয়ে দেওয়া পর্যন্ত থাকবেন। সঙ্গে শস্যবিমা সংক্রান্ত তালিকা তৈরির বিষয়েও তিনি দায়িত্বে থাকবেন।’’ বুধবার থেকে প্রধানমন্ত্রী শস্যবিমা যোজনা ক্যাম্প করা হচ্ছে। সেখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা নাম লেখাতে পারবেন বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘‘মাদুরকাঠিটা বিমার আওতায় নেই, সেটা আমি ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছি। কেলেঘাইয়ের জল, যেটা বিপদসীমার উপরে বইছিল, সেটা এখন অনেকটাই নেমেছে।’’
শুভেন্দু বলেন, ‘‘যাঁরা রিলিফ ক্যাম্পে ছিলেন তাঁদের পাঁচ দিনের রেশন দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। দু’জন মারা গিয়েছেন তাঁদের পরিবারকে সিআরএফ ফান্ড থেকে ৪ লক্ষ এবং মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। আবাস যোজনায় আরও ১৩ হাজার বাড়ি তৈরি হবে, টাকা বাড়ি তৈরি করতে সময় লাগবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘সবং ব্লকে ৩২০০ বাড়ি প্রাথমিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১০টা সাপে কামড়ের ঘটনা এসেছে। প্রত্যেককে বাঁচিয়ে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি। স্বাস্থ্য দফতর ভাল কাজ করেছে। পিএইচই জলের পাউচ বিলি করেছে। আলাদা করে টাকা দেওয়া হয়েছে, যাতে রেশন ও ২০ লিটারের জল বাড়িতে পৌঁছে দিতে পারে। আকাশপথে ৫টা গ্রাম পঞ্চায়েত আমি দেখেছি। রিভিউ করে যা নির্দেশ দেওয়ার দিলাম।’’
প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রয়োজন হলে যে তিনি আবার এই জেলার পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসবেন, তা-ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের বলে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, সবঙের পর বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুভেন্দু যান আরামবাগে।

