কলকাতা 

তৃণমূলের দলীয় তহবিল সংক্রান্ত মামলায় নয়া কোষাধ্যক্ষকে তলব করলো ইডি

শেয়ার করুন

তৃণমূলের দলীয় তহবিল সংক্রান্ত মামলায় এ বার দলের প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীকে তলব করল ইডি। ইডি সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহেই তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সের দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। শুভাশিস বর্তমানে কালীঘাট তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ। এই প্রসঙ্গে শুভাশিস জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। হাজিরার জন্য ইডির কাছে একটু সময় চাওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৯ জুন বিধায়কদের সই-কাণ্ডের তদন্তে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল কার্যালয়ে হানা দিয়েছিল সিআইডি। সঙ্গে ছিল পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীও। তবে প্রথমেই ভিতরে ঢুকতে পারেনি সিআইডি। প্রায় ঘণ্টাখানেক ওই কার্যালয়ে থাকা শুভাশিসের সঙ্গে বাদানুবাদের পর ভিতরে প্রবেশ করতে পারে তারা। প্রায় ঘণ্টা দুই কার্যালয়ের ভিতরে তল্লাশি চালায় সিআইডি।

এর আগে তৃণমূলের দলীয় তহবিল সংক্রান্ত মামলায় বেসরকারি বিমানসংস্থা কেয়ারওয়েল-এর দুই ডিরেক্টর পবন জাজু এবং রমেশ জাজুকে তলব করেছিল ইডি। তাঁদের বয়ানও নথিভুক্ত করা হয়।

এর আগে ইডির তরফে দাবি করা হয়েছিল যে, তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ চার্টার বিমান সংস্থাকে কপ্টার এবং বিমান কেনার জন্য কোটি কোটি টাকা ট্রান্সফার করেছিল তৃণমূল। তার পর সেই কপ্টার এবং বিমানই ‘ভাড়া’ নিয়ে টাকা গুনেছিল তারা! কেন এমনটা করা হয়েছিল, এখন সেটাই খুঁজছে তারা। তদন্তকারীদের অনুমান, এ ভাবে তছরুপ হয়ে থাকতে পারে তহবিল। তা নিয়ে আরও তদন্ত করে দেখতে চায় তারা। এই সূত্রেই তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ৪৪০ কোটি টাকা ‘ফ্রিজ়’ করার নির্দেশও দেয় ইডি। তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয় যে, তাদের অর্থ ‘ফ্রিজ়’ করার যে সিদ্ধান্ত ইডি নিয়েছে, তা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। ইডির এই পদক্ষেপ ‘বেআইনি’ বলেও দাবি করে তারা।

 

দৈনন্দিন ব্যবহারে ওই তিনটি অ্যাকাউন্টের টাকা কাজে লাগানোর আবেদন জানিয়েছিল মমতাপন্থী শিবির। সেই সময় কয়েকটি শর্ত বেঁধে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন যে, দৈনন্দিন কাজ ও মামলার খরচের জন্য তিনটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে। তবে অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনার ভার ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর হাতে থাকবে না। সেগুলি পরিচালনা করবেন আদালতের নিয়োগ করা একজন স্পেশ্যাল অফিসার। ইডি-র ফ্রিজ় করা তিনটি অ্যাকাউন্ট আদালতের নজরদারিতে ব্যবহার করতে চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় ‘কালীঘাট তৃণমূল’। সেই আবেদন খারিজ করে সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাও জানিয়ে দেন, আপাতত ওই সংক্রান্ত মামলায় কোনও হস্তক্ষেপ করবেন না তিনি।

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরে ভাঙন ধরেছে তৃণমূলের সংসদীয় এবং পরিষদীয় দলে। লোকসভায় ‘বিদ্রোহীরা’ তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিয়েছেন এনসিপিআই-এ। দলের এই অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের কথা উল্লেখ করে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার আবেদন জানিয়েছিলেন প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ, অধুনা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে থাকা অরূপ বিশ্বাস।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ