প্রচ্ছদ 

সাতঘরা হাই মাদ্রাসায় জন্মবার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে বক্তাদের অভিমত হিন্দু মুসলমান সমন্বয়ের কান্ডারী ছিলেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় 

শেয়ার করুন

নিজস্ব সংবাদদাতা, মেটিয়াবুরুজ : বিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী নেতা এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন উপাচার্য ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে পালন করা হয় কলকাতার মেটিয়াবুরুজের সাতঘরা হাইমাদ্রাসায়। মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষিকা ছাত্রছাত্রী মিলে বিভিন্ন কর্মসূচিতে পালন করা হয় জন্মোৎসব। এদিন কলকাতার তিনজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক শিবশঙ্কর বক্সী, সমর শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় ও সেখ আব্দুল মান্নান আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সামগ্রিক জীবনাদর্শন নিয়ে এক ভাবগম্ভীর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় মাদ্রাসা অডিটোরিয়ামে। মাদ্রাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সেখ ইবাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আমন্ত্রিত অতিথিত্রয় । প্রধান বক্তা সাহিত্যিক সমর শংকর চট্টোপাধ্যায় বলেন কোনো ধর্মই মানুষকে ঘৃণা করতে শেখায় না। মানুষ তার স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ধর্মকে হাতিয়ার করে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে, যা কাম্য নয়। প্রসঙ্গক্রমে তিনি হিটলারের কথা বলেন। হিটলার অত্যাচারী শাসক হলেও তিনি একজন ভালো বেহালাবালক ছিলেন। তিনি উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের শ্যামাপ্রসাদের উন্নতমানের শিক্ষাপ্রসারের দিকটি তুলে ধরেন।

বিশিষ্ট বক্তা শিবশঙ্কর বক্সী তাঁর বক্তব্যে ড. শ্যামাপ্রসাদের ওপর একটি স্বরচিত কবিতা ‘স্মরণে বরনে’ পাঠ করে শোনান। তাঁর কবিতার শেষ পঙ্ক্তি ছিল ‘চোখের জলে ভক্তি অর্ঘ্য দিয়ে সে বীর তোমায় করি স্মরণ।’

বিশিষ্ট বক্তা সাহিত্যিক সেখ আব্দুল মান্নান মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের উপযোগী কথা বলতে গিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আট বছর উপাচার্য থাকাকালীন শিক্ষাক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উন্নয়নের দিকটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে এযাবৎ জনমানসে ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আসলে তিনি ছিলিন হিন্দু মুসলমান সমন্বয়ের এক অন্যতম কান্ডারী। তিনি ছিলেন ফজলুল হক মন্ত্রীসভায় অর্থমন্ত্রী।

স্বাগত ভাষণ এবং অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সমগ্র জীবন নিয়ে প্রাঞ্জল আলোচনা করেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সেখ ইবাদুল ইসলাম।

এদিন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উপর একটি বক্তৃতা প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।‌ মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিরা প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।‌ প্রতিযোগিতায় ক্রমে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ পুরস্কার লাভ করে লায়সারা খাতুন, তাসকিয়াতুন খাতুন, মুজাসমা খাতুন ও রুকসাদ খাতুন। ‘সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে‘- পাঠ করে শোনায় ইয়াসমিনা খাতুন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে নিরবে পরিচালনা করেন শিক্ষক সমীরণ জানা।

ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানটি সুচারুরূপে সঞ্চালনায় ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক ওলিউল ইসলাম। এছাড়া ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বর্ষিয়ান শিক্ষক শেখ মনির উদ্দিন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহশিক্ষক চিরঞ্জীব কয়াল,সহশিক্ষিকা তাহসিনা ইয়াসমিন মিনা সাবাহ, সারমিন্দ আলম, খোদেজা খাতুন প্রমুখ।

__________________________________


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ