সোনারপুরের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে অভিষেক হলো!
বুলবুল চৌধুরী : বিজেপি রাজ্য সভাপতি যতই অস্বীকার করুক না কেন কিন্তু একটা জিনিস খুব পরিষ্কার হয়েছে আজকে শনিবার সোনারপুরে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে আক্রান্ত হয়েছেন তাতে করে বাংলাতে তো বটেই জাতীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেস আবার নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠলো। গত ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ থেকে কোনরকম শব্দ বের হচ্ছিল না। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল তারপরেও তিনি নিরব ছিলেন এবং জনগণের সেভাবে কোন প্রতিক্রিয়া ছিল না।
কিন্তু আজকে যেভাবে সোনারপুর যাওয়ার পথে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে আক্রান্ত হতে হলো তা এক কথায় বিজেপি এবং বর্তমান সরকার তার দায় অস্বীকার করতে পারে না। হতে পারে রাজনৈতিক হিংসার সংঘর্ষ সবকিছুই সম্ভব। বেশ কয়েক বছর আগে বিজেপির জাতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডাকে লক্ষ্য করে ইদ বৃষ্টি হয়েছিল এটাও সত্য কিন্তু তারপর ব্যবস্থা হয়েছিল পুলিশ কড়া অ্যাকশনে গিয়ে ছিল। কিন্তু শনিবারের ঘটনায় পুলিশ কোথায়? কেন্দ্রীয় বাহিনী কোথায়? এদের কাউকেই দেখা গেল না! বিজেপি রাজ্য সভাপতি সৌজন্যে রাজনীতির কথা বলেছেন! তিনি নানার সময় বাংলার সংস্কৃতির কথা বলছেন কিন্তু বাংলা সংস্কৃতির মধ্যে কোথাও কি কোন নেতা আক্রান্ত কর্মীর বাড়িতে গেলে এইভাবে আক্রান্ত করার সংস্কৃতি তৈরি করতে পারে! তৃণমূল কংগ্রেস প্রচন্ড খারাপ ছিল তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের প্রতি অত্যাচার করেছে মানুষের প্রতি খারাপ ব্যবহার করেছে মানুষের প্রতি আচরণ খারাপ করেছে! সাধারণ মানুষ সময় পেয়েছে, সুযোগ পেয়েছে তাদের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে ছে সরকার থেকে বিতাড়িত করেছে।
জনগণ তাদের শাস্তি দিয়েছে। কিন্তু ওই দলের একজন সর্বভারতীয় নেতা একজন সাংসদ লোকসভার দলের নেতা কিভাবে আক্রান্ত হন! যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন শাসকের আইন নয় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে সেই রাজ্যের বিরোধীদলের একজন সাংসদ কিভাবে আক্রান্ত হয় এবং বেশ কিছুক্ষণ ধরে আক্রান্ত হন চল্লিশ মিনিট ধরে অত্যাচার চলে।
এসব প্রশ্নের উত্তর হয়তো রাজ্যের শাসক দল দেবেন না। এটা আমরা ধরে নিচ্ছি। তথাকথিত গদি মিডিয়া এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলবে না এটাও আমরা ধরে নিচ্ছি। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যাকে এতদিন পিসির দয়ায় নেতা হয়েছেন বলে, আমরা ব্যঙ্গ করে এসেছি তাকে এক ধাক্কাই বড় নেতা বানিয়ে দিল বিজেপি। কারণ আমরা দেখলাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে এক অন্য অভিষেক। তিনি আক্রান্ত হওয়ার পরেও সাংবাদিকদের কাছে সাবলীল ভঙ্গিতে যা বলে গেলেন যেসব যুক্তি খাড়া করে গেলেন সেই সব যুক্তি সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিন থেকে যাবে।
শাসক বিজেপি দল হয়তো এখন কিছুই বুঝতে পারবে না কিন্তু এটা ক্রমশ পরিষ্কার হচ্ছে এই পরিবর্তনে বাংলার মানুষের কোন লাভ হয়নি। বরং নতুন বোতলে পুরনো মদের মতই এই পরিবর্তন। শুধু আক্ষেপ একটাই শেষ পর্যন্ত যাকে আমরা কোনভাবেই নেতা বলে মনে করতাম না তাকে শেষ পর্যন্ত নেতা বানিয়ে দিল বিজেপি।

