কলকাতা 

এক রাতের বৃষ্টিতেই ভাসছে কলকাতা! ৩৯ বছর পর একদিনে এত বৃষ্টি দেখল তিলোত্তমা

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পাঁচটা পর্যন্ত যে বৃষ্টি হয়েছে কলকাতা শহরে বিগত ৩৯ বছরে সেই বৃষ্টি হয়নি। অর্থাৎ ৩৯ বছর পর এই প্রথম একদিন কয়েক ঘন্টার মধ্যে এত বৃষ্টি হয়েছে। এ বছর এমনিতেই বর্ষার পরিমাণটা বেশি রয়েছে বিগত তিন সপ্তাহ ধরে যা বৃষ্টি হয়েছে তার থেকে ৬৯.৯ মিলিমিটার বৃষ্টি বেশি হয়েছে ২৪ ঘন্টায়।

মৌসম ভবনের তথ্য অনুসারে, সোম থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় দীর্ঘমেয়াদি গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে ২,৬৬৩ শতাংশ বেশি। বৃষ্টির পরিমাণে এর পরেই রয়েছে হাওড়া। যেখানে দীর্ঘমেয়াদি গড় বৃষ্টির পরিমাণ ১,০০৬ শতাংশ বেশি। আবহাওয়া দফতর আরও জানাচ্ছে, নিম্নচাপের প্রভাবে পুঞ্জীভূত মেঘ থেকে এত বৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ১৯৭৮ এবং ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বরে ২৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল কলকাতায়। সামগ্রিক ভাবে শহরে এটাই বৃষ্টির ষষ্ঠতম রেকর্ড। এক ঘণ্টায় আর ২ মিলিমিটার বেশি বৃষ্টি হলেই এই প্রবল বর্ষণকে মেঘভাঙা বৃষ্টি বলা যেত বলে জানাচ্ছেন আবহবিদেরা।

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় সেটি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর ওড়িশা উপকূলের উপর অবস্থান করছিল। তা ছাড়া একই সময়ে ওই এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সেটার স্থান পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই দুইয়ের জেরে রাতভর কলকাতায় এত প্রবল বৃষ্টি হয়েছে।

তার পরে আগামী বৃহস্পতিবার উত্তর-পশ্চিম এবং সংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। সেটি আরও ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শুক্রবার অন্ধ্র এবং ওড়িশা উপকূলের মধ্যবর্তী কোনও স্থানে পৌঁছোতে পারে। এর প্রভাবে কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় মাঝারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

বৃষ্টির গতি কমলেও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার নানা এলাকা জলমগ্ন। রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা যথেষ্ট কম। পুজোর আগে দোকান-বাজারে ক্রেতার সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। দুর্যোগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, “আমি এমন বৃষ্টি কখনও দেখিনি। শুনেছি, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাত-আট জন মারা গিয়েছেন। এটা দুর্ভাগ্যজনক যে, এত মানুষ প্রাণ হারালেন।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিনিয়ত কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তিনি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ