এরই নাম রাজনীতি! ডোনাল্ড ট্রাম্পের বন্ধু এলন মাস্কের বাকযুদ্ধে চাঞ্চল্য মার্কিন মুলুকে
বাংলার জনরব ডেস্ক : এরই নাম রাজনীতি কয়েকদিন আগেও যিনি বন্ধু ছিলেন যাকে সামনে রেখে আমেরিকার মসনদে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসীন হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই বন্ধু এলন মার্কস এখন রীতিমতো শত্রুতে পরিণত হয়েছে।
মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডলে মাস্ক লেখেন, ‘আমি দুঃখিত। কিন্তু আমি আর এটা নিতে পারছি না। এই বিরাট, জঘন্য, শূকরের মাংসে ভরা কংগ্রেসের ব্যয় বিলটি এক অতীব জঘন্য কাজ। যাঁরা ভোট দিয়েছেন এর পক্ষে, তাঁদের ঘৃণা। আপনারা জানেন আপনারা ভুল করেছেন। আপনারা অবশ্যই জানেন।’

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট মাস্কের এমন বক্তব্যের ‘জবাব’ দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বলেন, ”প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই জেনে গিয়েছেন মাস্কের এই বিল নিয়ে অবস্থান কী। তাতে প্রেসিডেন্টের মত বদলাবে না। এটা এক বড় সুন্দর বিল এবং উনি এর পক্ষেই রয়েছেন।”
মাস্কের এই বিল নিয়ে আপত্তি নতুন নয়। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ”কোনও বিল বিগ হতেই পারে। আবার সেটা বিউটিফুলও হতে পারে। কিন্তু আমার জানা নেই একসঙ্গে দুটোই হতে পারে কিনা।” এদিকে সম্প্রতি আরও একটি পোস্টে তাঁকে লিখতে দেখা গিয়েছিল, এই বিল ‘ইতিমধ্যেই বিপুল আকার ধারণ করা বাজেট ঘাটতিকে আরও বাড়িয়ে ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পরিণত করবে।’ কংগ্রেস আমেরিকাকে দেউলিয়া বানিয়ে ছাড়বে বলেও দাবি তাঁর।
গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ট্রাম্প তাঁর নতুন প্রশাসনে যুক্ত করেন এলন মাস্ককে। কিন্তু ৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প পরিষ্কার করে দিয়েছেন, DOGE-এর প্রধান হওয়া সত্ত্বেও এলন মাস্ক কোনওভাবেই নিয়োগ বা ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। তখন থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের দূরত্ব নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। যদিও মার্কিন প্রশাসনের বিশেষ কর্মকর্তারূপে তিনি নিযুক্ত হয়েছিলেন ১৩০ দিনের জন্য। ট্রাম্প সেই মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মাস্কও একদিন আগে পদত্যাগ করেছেন। তারপরই ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেছেন। আগামিদিনে এই সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করে কিনা সেদিকেই তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল।

