গৌতম আদানির পাশে তৃণমূল !
বিশেষ প্রতিনিধি : সংসদের ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে দূরত্ব রচনা করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস বলে জানা গেছে। গত রবিবারই এর আভাস পাওয়া গিয়েছিল। জানা গেছে রবিবার রাতে কংগ্রেসের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা তৃণমূলের এক সাংসদকে ফোনে অনুরোধ করেছিলেন লোকসভা ও রাজ্যসভায় গৌতম আদানির বিষয়টি তুলে ধরার জন্য। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের ওই নেতা স্পষ্ট করে কংগ্রেস নেতাকে জানিয়ে দেন যে তারা এ বিষয়ে নেই। কারণ তৃণমূল কংগ্রেস মনে করে দুর্নীতি জনগণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। জনতার স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন বিষয় নিয়ে হইচই করা উচিত নয় বলে তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে। শুধু তাই নয় আমরা জানি যে সোমবার কংগ্রেসের ডাক া বৈঠকে ইন্ডিয়া জোটের সব শরিকরা যোগ দিলেও তৃণমূল কংগ্রেস যোগ দেয়নি। এমনকি সোমবার সকালে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদের অধিবেশনের আগেই বলে দিয়েছিলেন যে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা সংসদে হৈচৈ করবে তারা সাধারণ মানুষের স্বার্থ নয় নিজেদের স্বার্থকে বড় করে দেখবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই বক্তব্যের পরে সংসদের মধ্যে গৌতম আদানীর ইস্যুতে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস এ বিষয়ে খানিকটা নীরবতা অবলম্বন করে। অন্যদিকে গতকাল বুধবার দুপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের বৈঠকে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন আদানি ইসুতে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আমাদেরকে দূরত্ব রচনা করতে হবে। আদানির ইস্যু মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এবং দুর্নীতি কোন ইস্যু নয়। মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইসুগুলিকে সংসদে বড় করে তুলে ধরতে হবে। উপস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের উদ্দেশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শ কোনভাবেই ব্যক্তিগত স্বার্থে কোন কোন রাজনৈতিক দল ও নেতা আদানি ইস্যুতে লোকসভায় হৈচৈ করলেও তা থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে হবে। মূল্যবৃদ্ধি এবং রাজ্যের অধিকার নিয়ে এমনকি অপরাজিতা বিল কে অবিলম্বে আইনে পরিণত করার দাবিতে বাংলার সাংসদদের সরব হওয়ার নির্দেশ দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল কংগ্রেসের এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট তারা বিশিষ্ট শিল্পপতি গৌতম আদানীর বিরুদ্ধে সরব হতে রাজি নয়। এরফলে ইন্ডিয়া জোটের মধ্যে ভাঙ্গন যে দেখা দিয়েছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সোমবার বলেছিলেন এই সংসদে বিরোধীদল গুলির মধ্যে এমনও কিছু সংসদ আছেন যারা সাধারণ নাগরিকদের স্বার্থে সংসদে সরব হন। তখনই বাংলার জনরব জানিয়ে দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস এবার সংসদে আদানি ইস্যুতে সরব হবে না। এ থেকে এটা প্রমাণিত হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির গোপন সমঝোতা রয়েছে।

