মহারাষ্ট্রে বিজেপি জোটের বিপুল জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রীর কুরসী কার? জল্পনা তুঙ্গে
বিশেষ প্রতিনিধি : বিপুল গরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করেছে বিজেপি জোট মহারাষ্ট্রে। বিরোধী দলের অস্তিত্ব প্রায় শূন্যের কোটায়। ৬০ বছরের সংসদীয় রাজনীতিতে মহারাষ্ট্রের বিধানসভায় কোন বিরোধী দলের নেতা থাকবেন না। এই নির্বাচনে ঘিরে নানা প্রশ্ন সামনে আসতে শুরু করেছে। মাত্র পাঁচ মাস আগেই ওই রাজ্য থেকে ৪৮ টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩১টি লোকসভা আসন জিতে ইন্ডিয়া জোট সবাইকে চমকে দিয়েছিল। সেই ইন্ডিয়া জোট এবার সব মিলিয়ে ৪৮ টি বিধানসভা আসন পেয়েছে। যদি লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল কেই সামনে রাখা হয় তাহলেও ইন্ডিয়া জোটের পাওয়ার কথা একশোর বেশি আসন। কিন্তু তারা তা পায়নি।
মহারাষ্ট্রের নির্বাচনের ফল বলছে এবার কার্যত বিরোধীরা কোনভাবেই চেষ্টা করলেও বিজেপি জোটে ভাঙ্গন ধরাতে পারবে না। ২০১৯ এর বিধানসভা নির্বাচনে শিবসেনা ও বিজেপি একসঙ্গে ভোটে লড়াই করেছিল। সেবার বিজেপি সবচেয়ে বড় দলের মর্যাদা পেলেও সরকার করতে পারেনি। কারণ শিবসেনা নেতা উদ্ভব ঠাকরে দাবী করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী পদ। বিজেপি সেই পদ দিতে চায় নি। ফলে সারদ পাওয়ারের আশীর্বাদ নিয়ে এবং কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন উদ্ধব ঠাকরে। তাই এবারের নির্বাচনে এমনভাবে ফল হয়েছে যে বিজেপিকে কোনভাবেই আর মুখ্যমন্ত্রীর কুরসী থেকে সরানো যাবে না।

এমনকি জোট সঙ্গী রা চাইলেও তা সম্ভব হবে না। তাহলে কি এবার ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফডণবীশ বসতে চলেছেন । সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তিনি যে মুখ্যমন্ত্রী হবেন তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। আর সেজন্যই রবিবার সকালে নিজের মুম্বাইয়ের নিজের বাসভবনে বিজেপির বিধায়ক দলের বৈঠক ডাকলেন। সেখান থেকে বিজেপি পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হবে বলে জানা যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে দেবেন্দ্র ফডণবীশ বিজেপি পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হবেন তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।
এদিকে রবিবার মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বাড়িতে বৈঠক দেখেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দে। তিনিও শিবসেনা দলের নির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠক ডেকেছেন সেই বৈঠক থেকে ওই দলের পরিষদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। নিজের বাসভবনে বৈঠক ডেকেছেন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস দলের নেতা অজিত পাওয়ার। তিনিও ওই দলের বিধায়ক মধ্য থেকে নেতা নির্বাচিত যে হবেন তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর পদে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন না বিজেপি তা নিজের লোককে মুখ্যমন্ত্রী করবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই মুহূর্তে যা হয়েছে তাতে বিজেপি ছাড়া কারো পক্ষেই সরকার গঠন করা সম্ভব নয়। ১৯৯৫ সালের পর থেকে বিজেপি এবং শিবসেনা যৌথভাবে মহারাষ্ট্রে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। অন্যদিকে কংগ্রেস এবং এনসিপির মধ্যে যৌথভাবে ওই রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। ফলে কোন সময়ই কংগ্রেস দল একক ভাবে সরকার গঠন করতে পারেনি ১৯৯৫ সালের পর থেকে। সব সময় শারদ পাওয়ারের সমর্থন নিয়েই সরকার গঠন করতে হয়েছে কংগ্রেসকে। এবার মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শারদ পাওয়ার কার্যত ক্ষমতাহীন হয়ে গেলেন। যা এক কথায় নজির বিহীন বলা যেতে পারে। ৬০ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম শারদ পাওয়ার ছাড়া মহারাষ্ট্রের রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হবে।

