নির্বাচনী বন্ড থেকে বিজেপি একাই প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা! নির্বাচন কমিশনের তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর দেশ জুড়ে হইচই
বাংলার জনরব ডেস্ক : নির্বাচনী বন্ড থেকে সবচেয়ে বেশি আয় করেছে শাসক দল বিজেপি এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীদল গুলি অভিযোগ করে আসছিল। আজ রবিবার নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে নির্বাচনী বন্ড থেকে প্রাপ্ত যে টাকার হিসাব গোপন খামে জমা দিয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলি তা প্রকাশ করেছে।
সেখানে দেখা যাচ্ছে এদেশের প্রথম সারির বিরোধী দলগুলো সবাই মিলে যে টাকা পেয়েছে তার চেয়ে বেশি টাকা পেয়েছে শাসক বিজেপি দল। বিজেপি একাই পেয়েছে ৬৯৮৬.৫ কোটি। আর সাতটি প্রথম সারির বিরোধী দল মিলিয়ে পেয়েছে প্রায় ৬১৮৬ কোটি। আর বিজেপি একাই ৬৯৮৬.৫ কোটি। নির্বাচনী বন্ড (Electoral Bond) থেকে কোন দল কত আয় করেছে, রবিবার সেই তথ্য প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন।
রবিবার কমিশন (Election Commission) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের অন্তবর্তীকালীন নির্দেশ মেনে নির্বাচনী বন্ড সংক্রান্ত তথ্য জমা দিয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলি। সেই তথ্যই রবিবার কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। যা আদতে রাজনৈতিক দলগুলির দেওয়া নির্বাচনী বন্ডের তথ্য। রয়েছে বন্ডের তারিখ ও সংখ্যা, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার কোন শাখার বন্ড, তা কেনার তারিখ এবং রাজনৈতিক দলগুলি কবে ভাঙিয়েছিল, সেই তারিখ।
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, বন্ড থেকে সবচেয়ে বেশি আয় করেছে বিজেপি (BJP)। ৬৯৮৬.৫ কোটি টাকা পড়েছে গেরুয়া শিবিরের তহবিলে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তৃণমূল (TMC)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল মোট ১৩৯৭ কোটি টাকা পেয়েছে এই বন্ড থেকে। তৃতীয় স্থানে থাকা কংগ্রেস পেয়েছে ১৩৩৪ কোটি। তেলেঙ্গানার বিআরএসের খাতায় পড়েছে ১৩২২ কোটি টাকা।
নির্বাচনী বন্ড থেকে প্রাপ্ত যে তালিকা নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করেছে তা আমরা তুলে ধরছি।
প্রথম স্থানে বিজেপি প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ ৬৯৮৬.৫ কোটি।
দ্বিতীয় স্থানে তৃণমূল কংগ্রেস প্রাপ্ত টাকার পরিমান ১৩৯৭ কোটি।
তৃতীয় স্থানে জাতীয় কংগ্রেস প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ ১৩৩৪ কোটি।
চতুর্থ স্থানে বিজেডি প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ ৯৪৪.৫ কোটি।
পঞ্চম স্থানে ডিএমকে প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ ৬৫৬.৫ কোটি।
ষষ্ঠ স্থানে ওয়াই এস আর কংগ্রেস প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ ৪৪২.৮ কোটি।
সপ্তম স্থানে রয়েছে জেডিএস প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ ৮৯.৭৫ কোটি।
এছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে ওড়িশার শাসক দল বিজেডি (৯৪৪.৫ কোটি), তামিলনাড়ুর ডিএমকে (৬৫৬.৫ কোটি), অন্ধ্রের ওয়াইএসআর কংগ্রেস (৪৪২.৮)। জেডিএসের প্রাপ্ত ৮৯.৭৫ কোটির মধ্যে ৫০ কোটি টাকাই দিয়েছে মেঘা ইঞ্জিনিয়ারিং। নির্বাচনী বন্ড কেনার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এই সংস্থাটি। বন্ড থেকে পাওয়া ডিএমকের ৩৭ শতাংশ অনুদান এসেছে ফিউচার গেমিং সংস্থা থেকে। যাইহোক নির্বাচন কমিশন আজ এই তথ্য প্রকাশ্যে আনার পর মনে করা হচ্ছে এতদিন ধরে বিরোধীরা যে অভিযোগ করছিল তা অতি সত্য। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচনী বন্ড অসংবিধানিক হয়ে যাওয়ার পর আর সেই সঙ্গে অর্থ ের প্রাপ্তির বিষয়টি সামনে আসার পর বিজেপির কাছে আর কোন বিকল্প কিছু রইল না যা দিয়েছে বলতে পারে সে তেমন কিছু পায়নি।

