দেশ 

তেলেঙ্গানায় কংগ্রেসের জয়ের নেপথ্যের কারিগর রাহুল-প্রিয়াঙ্কা- খাড়গে

শেয়ার করুন

বুলবুল চৌধুরি : গত বছর হায়দ্রাবাদ পুরসভার নির্বাচনে কংগ্রেস দল তেমন দাগ কাটতে পারেনি । এমনকি তাবড় তাবড় ভোট পন্ডিতরা গতকাল পর্যন্ত বলে আসছিলেন তেলেঙ্গানায় এগিয়ে কেসিআর । কিন্ত বিধানসভা নির্বাচনের ফল বলছে এক দশকের কেসিআর সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে । এই অসম্ভবকে সম্ভব করলো কীভাবে কংগ্রেস ? যেখানে অন্যান্য হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলিতে বিপুল ভাবে হেরেছে , সেখানে তেলেঙ্গানায় সাফল্যের নেপথ্যে কে ? এই প্রশ্নের উত্তর অনেকেই জানতে চাইছেন ।

আসলে তেলেঙ্গানায় কংগ্রেসের ভালো ফলের নেপথ্যে রয়েছে রাহুল প্রিয়াঙ্কা এবং মল্লিকা অর্জুন খাড়গের নিজস্ব কারিশমা। কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় ফল করার পর কংগ্রেসের নজর পরে পাশের রাজ্য তেলেঙ্গানার দিকে। রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী দুজনেই পালা করে যেতে থাকে তেলেঙ্গানায়। আমাদের সকলের মনে রাখা উচিত মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের নেতা ছিলেন কমল নাথ, দ্বিগবিজয় সিং এর মত ব্যক্তিত্ব। রাজস্থানে ছিলেন অশোক গেহলট এবং সচিন পাইলটের মতো নেতা। ছত্রিশগড়ে ছিলেন ভুপেশ বাঘেলের মত নেতা। এরা সকলেই রাহুল গান্ধীর চেয়ে বড় এবং কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর সহ যোদ্ধা ছিলেন এই সকল নেতারা।

Advertisement

স্বাভাবিকভাবে এই রাজ্যগুলিতে রাহুল গান্ধী কিংবা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নিজস্ব রাজনৈতিক কৌশল প্রয়োগ করতে পারেননি। এরা সকলেই নির্ভর করেছিলেন স্থানীয় এইসব প্রবীণ নেতাদের উপরে। কিন্তু তেলেঙ্গানার ক্ষেত্রটা আলাদা ছিল। কারণ এখানে কংগ্রেসের কোন মুখ্যমন্ত্রীর পদে যোগ্য নেতৃত্ব ছিল না। তাই এখানে কংগ্রেস দলকে নতুন করে নেতৃত্ব তৈরি করতে হয়েছে এবং সেই নেতৃত্ব সরাসরি রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কিংবা রাহুল গান্ধী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেই প্রতিশ্রুতিগুলোই এখানে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল। আর রাজনৈতিক কৌশল তৈরি করার জন্য রাহুল গান্ধী সরাসরি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকা অর্জুন খাড়গের উপর নির্ভর করেছিলেন।

খাড়গে কংগ্রেসের সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং তিনি কর্নাটকের বাসিন্দা, স্বাভাবিকভাবেই তেলেঙ্গানার রাজনীতির মারপ্যাঁচের সকলটাই জানা ছিল। তাই কংগ্রেসের হারিয়ে যাওয়া জমি নিয়ে যখন সকলেই সংশয় প্রকাশ করছিলেন ঠিক তখনই কংগ্রেস তেলেঙ্গানায় ঘুরে দাঁড়াল এবং ক্ষমতায় ফিরে এলো। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য তেলেঙ্গানা রাজ্য তৈরি হওয়ার পর এই প্রথম কংগ্রেস দল এখানে ক্ষমতায় এলো। ২০১৪ সালে তেলেঙ্গানা রাজ্যটি তৈরি হয়েছিল এবং সেই থেকে এখানকার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন কে সি আর। টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার পর কে সি আর সরকারের পতন ঘটল ক্ষমতায় এলো কংগ্রেস। দক্ষিণের এই রাজ্যে ক্ষমতায় আসার ফলে কংগ্রেস নিজের দখলের দুটি রাজ্য রাখতে পারল।

তবে তেলেঙ্গানায় কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পাশাপাশি এবার খানিকটা ধাক্কা খেলেও হায়দারাবাদের অন্যতম মুসলিম মুখ মিম দলের নেতা আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি নিজের গড় অটুট রাখতে পেরেছেন। গতবার সাতটি বিধানসভা আসন তেলেঙ্গানায় ছিল মিমের এবার সেই সংখ্যাটি কমে ছটি হয়েছে। তবে নিজের গড় মোটামুটি অটুট রাখতে পেরেছেন আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি। অন্যদিকে ভিআরএস এর হেরে যাওয়ার নেপথ্যে মনে করা হচ্ছে বিজেপির সঙ্গে তার গোপন সমঝোতা আছে এই প্রচারটা সাধারন মানুষ বিশ্বাস করে নিয়েছে একইসঙ্গে কংগ্রেসের জনমোহিনী প্রকল্পগুলির প্রতিও মানুষ আস্থা রেখেছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

বৃথা আশা মরিতে মরিতে ও মরে না তাই একথা বলতে বাধ্য হতে হচ্ছে আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস হয়তো তেলেঙ্গানার মতই আবার নতুন করে জেগে উঠতে পারে। তবে কংগ্রেসকে যে কাজটা করতে হবে সেটা হলো নরম হিন্দুত্ব ছেড়ে সরাসরি ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে কথা বলতে হবে। জহরলাল নেহেরু এবং ইন্দিরা গান্ধীরা যে পথ দেখিয়ে গেছেন সেই পথকে অনুসরণ করতে যদি পারেন রাহুল প্রিয়াঙ্কা তাহলে মনে হয় কংগ্রেস ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে সার্বিক বিচার করলে দেখা যাবে আক্ষরিক অর্থে কংগ্রেসের তেমন কোন ক্ষতি হয়নি কংগ্রেস যেমন ছত্রিশগড় হারিয়েছে তেমন সে ফিরে পেয়েছে তেলেঙ্গানা কংগ্রেস যেমন রাজস্থান হারিয়েছে তেমনি সে ফিরে পেয়েছে কর্ণাটক। তাই আগামী লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস দল ক্ষমতায় আসতে না পারলেও ভালো ফলের আশা করতেই পারে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ