কলকাতা 

যাদবপুরের প্রথম বর্ষের ছাত্রের মৃত্যু নিয়ে রহস্য ঘনীভূত! নেপথ্যের কারণ খুঁজতে তদন্তে পুলিশ

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : আজ ভোরে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের। জানা গেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন হোস্টেলের এ ব্লকের তৃতীয় তলার বারান্দা থেকে কোনভাবে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন স্বপ্নদ্বীপ কুণ্ডু নামে এক আঠারো বছরের যুবক। এবছরই সে বাংলা অনার্স নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন নদীয়ার হাঁসখালির বগুড়াতে তার বাড়ি। হস্টেলের অন্য পড়ুয়াদের দাবি, বুধবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ তাঁরা ভারী কিছু পড়ার শব্দ পান। তাঁরা দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন স্বপ্নদীপ। উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিকটবর্তী এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর। পুলিশ সূত্রে এই খবর জানানো হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

বুধবার থেকে বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়। স্বপ্নদীপ ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন। বিভাগে ক্লাস করে যে তাঁর খুব ভাল লেগেছে, তা বাবা এবং মামাকে জানিয়েছিলেন। তবে বাংলা বিভাগের একাধিক শিক্ষক এবং কয়েকজন ছাত্রের অভিযোগ স্বপ্নদ্বীপকে র‌্যাগিং করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার তে ছড়িয়ে পড়া নানা মন্তব্য থেকে জানা যাচ্ছে স্বপ্নদ্বীপকে রীতিমতো উলঙ্গ করে মারধর করা হয়েছে এবং সেটা সহ্য করতে না পেরে সে তিন তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছিল বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ছাত্র-ছাত্রী মন্তব্য করেছেন।

Advertisement

অবশ্য এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বাংলা বিভাগেরই অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিন্‌হা, ‘‘এই মৃত্যু মর্মান্তিক। র‌্যাগিং হিসাবে বিষয়টিকে ধরে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবিলম্বে এফআইআর করা উচিত। স্বপ্নদীপ নিজে ভালবেসে বাংলা পড়তে এসেছিল। ওর পড়তে ভাল লাগছিল। সে কথা ওর বাবাকে নিজেই জানিয়েছে। তার পর এই ঘটনা ঘটল কী করে?’’

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কুণাল চট্টোপাধ্যায়ের  দাবি, র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে স্বপ্নদীপ মারা গিয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘‘একটি প্রথম বর্ষের ছাত্র র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে একটু আগে মারা গেছে। আমার মনে পড়ে, র‌্যাগিং সত্যিই ‘র‌্যাগিং’ কি না, সেটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দিয়ে ঠিক করতে হবে, এই কথা বলে প্যামফ্লেট প্রকাশ করে ঐ সব কাজের ন্যায্যতা প্রমাণ করতে চাওয়া হয়েছিল। মৃত্যুর পর নিজেদের গা বাঁচানোর চেষ্টা অনেকেই করবে।…’’

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ