১৯৭৮ থেকে ২০২৩ এই পঞ্চায়েতের জনাদেশ বামেদের পক্ষে!
বাংলার জনরব ডেস্ক : একটানা ১০ বার পঞ্চায়েতে ক্ষমতা দখল করা মুখের কথা নয় কিন্তু এই বাস্তব ঘটনায় ঘটেছে পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লকের জামবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতে। ১৯৭৮ সাল থেকে পঞ্চায়েতে রাজ এই বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এই পঞ্চায়েতে ক্ষমতায় আসীন হয় সিপিএম তথা বামফ্রন্ট। তারপর থেকে দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে একটানা জামবাদ পঞ্চায়েতে ক্ষমতায় রয়েছে সিপিএম। ২০২৩ কিংবা ২০১৮ সমগ্র রাজ্যজুড়ে যখন সবুজ ঝরে বেসামাল তখনও এই পঞ্চায়েতে ক্ষমতায় বামেরা।
২০১৮-র পর ২০২৩ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী ৯টি আসনের মধ্যে ৩টি সংসদে জয়ী হয়েছে তৃণমূল (TMC)। ৬টি সংসদে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করছে সিপিআইএম। ১৯৭৮ সাল থেকে পঞ্চায়েত রাজ ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর এক টানা ৪৫ বছর গ্রাম পঞ্চায়েত নিজেদের দখলে রাখেন। এবারও ওই পঞ্চায়েতের দখল নিয়ে আরও ৫ বছর বোর্ড গড়ে হাফ সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যাচ্ছেন জামবাদের জয়ী কমরেডরা। ২০১৮ সালেই সিপিএম-র রাজ্য সদরদপ্তরে এই গ্রাম পঞ্চায়েতের জয়ী সদস্যদের সংবর্ধনা দিয়েছিল দল। সিপিআইএমের পুঞ্চা পশ্চিম এরিয়া কমিটির সম্পাদক তথা প্রাক্তন প্রধান অম্বরিশ মাহাতো বলেন,”পঞ্চায়েতের কাজ বাদ দিয়েও সংসদ ভিত্তিক আমাদের দলীয় নেতৃত্ব এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকেন। তারই সুফল মিলল।”

ওই পঞ্চায়েতের লাল বোর্ডের তালিকা অনুযায়ী ১৯৭৮ থেকে একটানা সিপিআইএমের দখলে থেকেছে এই পঞ্চায়েত। ২০১৩ সালে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও নির্বাচন না হওয়ায় ৩৪ দিন এই পঞ্চায়েতে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন পুঞ্চা বিডিও। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরেও ২০১৩ সালে তৃণমূল ২টি, সিপিআইএম ৮ টি সংসদে জয়ী হয়ে এই গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেন কমরেডরা। ২০১৮ সালে ৮টি সংসদেই জয়লাভ করে সিপিআইএম। তবে এবারে এই পঞ্চায়েতে আসন সংখ্যা বেড়ে ৯টি হয়। পুঞ্চা ব্লক তৃণমূল সভাপতি অশোক মাহাতো বলেন, “৯টির মধ্যে ৩টি আসনে তৃণমূল জয় লাভ করেছে। সচেতনতার অভাবে একাধিক সংসদে পরাজয়ের সংখ্যার চেয়ে বেশি ভোট বাতিল হয়েছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ২০২৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচনে জামবাদ অঞ্চল তৃণমূল দখল করবে।”
জামবাদ গ্রাম পঞ্চায়েত এর সাধারণ মানুষ প্রমাণ করেছে যারা মানুষের সঙ্গে থাকেন তাদেরকেই নির্বাচিত করবে। সিপিএম দল ৪৫ বছর ধরে একটানা একটি গ্রাম পঞ্চায়েতে জিতে আসছে, মানে এটা ঠিক যে মানুষের সমর্থন তাদের পাশে আছে।

