জেলা 

রাজ্যপালের আবেদনে সাড়া দিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে গিয়ে পুলিশের কাছে ঘাড় ধাক্কা খেলো কংগ্রেস সিপিএম

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : রাজ্যপাল কথা দিয়েছিলেন কোচবিহারের দিনহাটা যাওয়ার পথে যে কোন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ চাইলে তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন এমনকি কোন ভয় থামিয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন। কিন্তু পুলিশের ঘেরাটোপের মধ্যে থাকা রাজ্যপালের কাছে ভালোভাবে অভিযোগ জানাতে পারলেন না কংগ্রেস এবং সিপিএমের প্রতিনিধিরা। পুলিশ প্রশাসন কার্যত ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাদেরকে সরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।

শনিবার সকালে কোচবিহার সার্কিট হাউসে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যান বিজেপি, সিপিএম এবং কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা। প্রত্যেকেই শাসকদলের বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত ভোটের আগে হিংসার অভিযোগ করেন। এর পর রাজ্যপাল দিনহাটার দিকে রওনা দেন। ওই পথে রাজ্যপালের জন্য অপেক্ষা করছিলেন সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য শুভ্রলোক দাস। তাঁর পাশে ছিলেন কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা। পিছনে দুই দলের পতাকা হাতে দাঁড়িয়েছিলেন বাম এবং কংগ্রেস সমর্থকেরা। শুভ্রর কথা শুনতে রাজ্যপাল বোসের গাড়ি থামে। শাসকদলের বিরুদ্ধে রাজ্যপালকে অভিযোগ জানাতে শুরু করেন শুভ্র। কিন্তু আচমকা তাঁকে ধাক্কা দেন এক পুলিশ আধিকারিক। এর পর রাজ্যপালের কনভয় বেরিয়ে যায়। যদিও সিপিএম নেতা রাজ্যপালের গাড়ির পিছনে বেশ কিছু ক্ষণ দৌড়তে থাকেন। ‘স্যর, অনুগ্রহ করে এক বার শুনুন’ বলতে বলতে রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু তখন এগিয়ে গিয়েছে রাজ্যপালের কনভয়।

এর পরেই পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য শুভ্র। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যপাল আমাদের কথা শোনার চেষ্টা করেছিলেন। আমি কথা বলছিলাম ওঁর সঙ্গে। কিন্তু প্রশাসন আমাদের বাধা দিয়েছে।’’ তাঁর পাশে দাঁড়ানো এক কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘‘আমরা সিপিএম এবং কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে রাজ্যপালকে জানাতে চেয়েছিলাম যে, কী ভাবে দিনহাটা-১ এবং ২ ব্লকে তৃণমূলের তাণ্ডব চলছে। গীতালদহে কী ভাবে বিরোধীদের উপর আক্রমণ হচ্ছে। কিন্তু এখানকার প্রশাসন রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলতে দিল না। আমরা রাজ্যপালকে এ নিয়ে স্মারকলিপি দেব।’’ রাজ্যপালকে সামনে পেয়েও পুলিশের জন্য কথা বলা গেল না বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

ইতিমধ্যে দিনহাটায় মৃত এবং আহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন রাজ্যপাল। বিজেপি প্রার্থী বিশাখা দাসের দেওর শম্ভু দাস খুন হন গত ১৮ জুন। দিনহাটা ২ নম্বর ব্লকের কিসামত দশগ্রাম এলাকায় তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যপাল। সেদিনের ঘটনার বিবরণ শোনেন। মৃত শম্ভুর ছবিতে মাল্যদানও করেন রাজ্যপাল। পরে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে যান বোস। সেখানে ধৃত তৃণমূল নেতা তাপস দাসের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সৌজন্যে ডিজিটাল আনন্দবাজার।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ