কলকাতা বিনোদন, সংস্কৃতি ও সাহিত্য 

কথায় কবিতায় গানে মুখর নজরুল ইসলামের ১২৫ তম জন্মোৎসব

শেয়ার করুন

সংবাদদাতা বাংলার জনরব: দিকে দিকে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের একশ পঁচিশ তম জন্মোৎসব পালিত হচ্ছে সাড়ম্বরে।‌ ওই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল বাংলার জনরবের সাহিত্য বিভাগ গত ১১ জুন ২০২৩ রবিবার সন্ধ্যায় ভার্চুয়ালি উদযাপন করে নজরুলের এই গুরুত্বপূর্ণ জন্মোৎসব। গানে, কবিতায়, আলোচনায় আয়োজিত এদিনের নান্দনিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত আলোচক হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবি গীতিকার ও নজরুল বিশেষজ্ঞ এ কে আজাদ, পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট লেখক তথা নজরুল অনুরাগী মহ: ইনাস উদ্দীন , গুয়াহাটির বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী রাজকুমার দাস ও ব্যাঙ্গালোরের বিশিষ্ট নজরুল সংগীত শিল্পী অমিতা চক্রবর্তী।

বাংলার জনরবের সাহিত্য সম্পাদক সেখ আব্দুল মান্নানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সূচনায় স্বাগত বক্তব্য এবং অনুষ্ঠানের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন বাংলার জনরবের সম্মানীয় সম্পাদক তথা বিশিষ্ট কলামিস্ট সেখ ইবাদুল ইসলাম। এদিনের নির্ধারিত আলোচ্য বিষয় ‘নজরুলের গান এবং কবিতার ভাবনা এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক’ কেন্দ্রীক আলোচনা শুরুর আগে প্রারম্ভিক সংগীত ‘অন্তরে তুমি আছো চিরদিন ওগো অন্তরযামী’ মিষ্টি সুরে পরিবেশন করেন শিল্পী অমিতা চক্রবর্তী। এরপর উল্লিখিত বিষয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব এ কে আজাদ বলেন, নজরুলের গান কবিতা একশ পঁচিশ বছর পরে আজ যেমন প্রাসঙ্গিক আগামী একশ পঁচিশ বছর পরেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক থাকবে। আসলে নজরুল এক মহা সমূদ্র, একে মন্থন করা শত শত বছরেও সম্ভব নয়।

নজরুলের আদর্শকে সামনে রেখে কৃষ্ণনগরে সৃষ্ট শিল্প সাংস্কৃতিক মঞ্চ ‘সুজন বাসর’এর কর্ণধার লেখক সমালোচক মহ: ইনাস উদ্দীন তাঁর বক্তব্যে নির্ধারিত আলোচনার বিষয়ের গুরুত্বকে সম্মান জানিয়ে বলেন, তিনি খুশি হতেন যদি আলোচনার বিষয়টি এখন অপ্রাসঙ্গিক হতো। যেহেতু নিজেকে হুজুগের কবি দাবি করা যুগের কবি নজরুল তৎকালে সমস্যাদীর্ণ সমাজকে বিভিন্ন দিক থেকে সমস্যামুক্ত করার বাসনায় প্রয়োজনীয় অসংখ্য গান, কবিতা, প্রবন্ধ নিবন্ধ রচনা করেছিলেন। কিন্তু সমাজ সেদিন যে তিমিরে ছিল আজও সেই তিমিরে রয়েছে। তাই ইনাস উদ্দীন সাহেব তাঁর বক্তব্যে আশা ব্যাক্ত করেন চলমান সমাজ যত তাড়াতাড়ি নজরুল চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পরিশুদ্ধ হবে ততই সার্থক হবে নজরুলের সাহিত্য সম্ভার।

উত্তরপূর্বাঞ্চলের জনপ্রিয় শিল্পী রাজকুমার দাস মূলতঃ উচ্চাঙ্গ সংগীত শিল্পী। তাই‌ অনুষ্ঠানের মানের সাথে সাযুজ্য রেখে পরিবেশন করেন একগুচ্ছ নজরুল গীতি। যার মধ্যে ‘আমি পথ মঞ্জরি ফুটেছি আঁধার রাতে’ এবং ‘শুনলো বাঁশিতে ডাকে আমার শ্যাম’ গান দুটি অবশ্যই শ্রোতাদের তাড়িত করেছে। অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি হয় অমিতা চক্রবর্তীর আন্তরিক পরিবেশনায় নজরুলের কালজয়ী গান ‘শাওন আসিল ফিরে সে ফিরে এলো না’ দিয়ে।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ