রাজ্যপালের নির্দেশ মেনে ১১ জনের মধ্যে দশজন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব নিলেন, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর আবেদন কি ব্যর্থ হল?
বিশেষ প্রতিনিধি: আপাত দৃষ্টিতে বেমানান মনে হলেও আচার্য হিসাবে উপাচার্যহীন বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ করতে পারেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু যে ভাষায় রাজ্যপালকে শিক্ষা মন্ত্রী আক্রমণ করছেন সেটা সৌজন্যের ভাষা নয় বলেই শিক্ষা মহল মনে করছেন। এমনকি রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু সরাসরি রাজ্যপালের নিয়োগকৃত অস্থায়ী উপাচার্যদের সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অনুরোধ করেছিলেন এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রত্যাখ্যান করতে। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর এই আবেদনকে যে কোনোভাবেই কর্ণপাত করতে রাজি নন অস্থায়ী উপাচার্যগণ তা স্পষ্ট হয়ে গেল।
রাজ্যপালের নিয়োগকৃত ১১ জন অস্থায়ী উপাচার্যের মধ্যে মাত্র একজন শারীরিক কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব নিতে অপারগ বললেও বাকি ১০ জন কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আবার ঘোষণা করেছেন রাজ্যপালের নিয়োগকৃত এইসব অস্থায়ী উপচার্যদের কোনোভাবেই স্বীকৃতি দেবে না সরকার। মনে করা হচ্ছে শিক্ষা দফতর কার্যত রাজ্যপালের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। বিকাশ ভবন বনাম রাজভবন এই লড়াই শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে শিক্ষা মহল মনে করছে। সূত্রের খবর ইতিমধ্যেই শিক্ষা দফতর নাকি আইনজীবীদের সঙ্গে শলাপরামর্শ শুরু করেছে।

তবে একথা মানতেই হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই অচল অবস্থায় নেপথে শিক্ষা দফতরের ভূমিকাকে অস্বীকার করা যাবে না। তারা যদি অস্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ না করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করতেন তাহলে এই সমস্যা সামনে আসত না। তাই আদালতের দ্বারস্থ হলে রাজ্য সরকার যে বেশ খানিকটা ব্যাকফুটে চলে যেতে পারে তা অনেক আইনজীবী মনে করছেন ।

