লিটল ম্যাগাজিন মেলায় ‘সাহিত্যের অন্দর মহল’ নিয়ে আলোচনা করলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিকরা
সেখ আব্দুল মান্নান, কলকাতা: ১১-১৫ জানুয়ারি ২০২৩ পশ্চিমবঙ্গ সরকার আয়োজিত লিটিল ম্যাগাজিন মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল কলকাতা রবীন্দ্র সদন ও নন্দন প্রাঙ্গণে। ৩৫০ টির অধিক বিভিন্ন লিটিল ম্যাগাজিন স্টলে দিয়ে সেজে উঠেছিল এই মেলা। স্বভাবতঃই মেলাকে ঘিরে দৈনিক শত শত লেখক পাঠক আর ক্রেতার সমাগমে মুখর হয়ে উঠেছিল। অন্যন্য বছরের মতো এবারও নৃত্য,গান,কবিতা, গল্পপাঠ, আলাপ-আলোচনা, সম্মাননায় জমজমাট ছিল মেলা। দৈনিক নির্ধারিত নানা অনুষ্ঠানের ভেতর দিয়ে এসে শেষের দিন গত ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাংলা সাহিত্যের চার বিদগ্ধ সাহিত্যিকের প্রাঞ্জল আলোচনা যেন সাহিত্যের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন সাহিত্যিক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, ঝরেশ্বর চট্টোপাধ্যায়, সাধন চট্টোপাধ্যায়, নলিনী বেরা ও অনিতা অগ্নিহোত্রী। ‘সাহিত্যের অন্দর মহল’ বিষয়ক আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন সাধন চট্টোপাধ্যায়। বিষয়কে সামনে রেখে প্রথমেই তিনি বলেন সাহিত্যের বীজ কিভাবে উপ্ত হয় সেটাই মঞ্চাসীন আমন্ত্রি সাহিত্যকরা আজ তুলে ধরবেন। প্রসঙ্গক্রমে তিনি তাঁর ‘সাগর’ গল্পের অন্দর মহলের কথা শোনান। সেইসঙ্গে তিনি গল্প আর কাহিনীর ফারাকের বিষয়টিও বুঝিয়ে বলেন।

আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে সাহিত্যিক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় রামায়ণ ভিত্তিক তাঁর ‘ নদী মাটি অরন্য’ এবং মহাভারত ভিত্তিক ‘দ্বৈরথ’ উপন্যাস দুটির অন্দর মহলের কথা উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেন।
সাহিত্যিক নলিনী বেরা তাঁর কালজয়ী উপন্যাস ‘সুবর্ণরেখা’ লেখার অনুপ্রেরণা ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। মূলতঃ উপন্যাসটির মুখ্য চরিত্র তাঁর মেজদিকে নিয়ে। পরবর্তীতে আর এক সাঁওতাল মহিলা কি করে মেজদিও হয়ে উঠলো তা বুঝিয়ে বলেন। যে জায়গা থেকে তাঁর উঠে আসা সেই সময় সেই জায়গায় প্রচলন ছিল কারো সাথে কারো মুখের মিল থাকলে স্যাঙাত পাতানো, মেয়েদের বেলায় ছিল স্যাঙাতিনী পাতানো। আপন দিদির সাথে ওই সাঁওতাল মহিলার মুখের মিল ছিল বলেই তাঁর মেজদির স্যাঙাতিনী হয়েছিল সে । তাই তিনি তাঁকে দ্বিতীয় মেজদি হিসেবে শ্রদ্ধা করতেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি তাঁর এলাকার চলতি কথা ‘দেয়ার ইজ এ ফ্রগ’ এর অর্থ বলেন ‘সেটুরে এটা ব্যাঙো’। যা শুদ্ধ বাংলায় ‘সেখানে একটি ব্যাঙ।’ তাঁর উপন্যাসের সৃষ্টি সেখান থেকেই। সবিনয়ে স্বীকার করেন যে তিনি এখনও যান্ত্রিক লেখায় অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেননি। তাই এখনও তাঁর কোনো কোনো হাতে লেখা সাহিত্য দপ্তর থেকে ফেরত আসে। অর্থাৎ কথা প্রসঙ্গে তিনি বুঝিয়ে দিলেন আজকাল পত্র পত্রিকা দপ্তরের সবাইকে মোবাইল বা কম্পিউটারে লেখা পাঠাতে হয়।
সুলেখিকা অনিতা অগ্নিহোত্রী বলেন তিনি বাংলায় সাহিত্য চর্চা করলেও তাঁর বাড়িতে বাংলার চলন ছিল না। বাড়িতে ছিল মারাঠি ভাষার প্রচলন। তথাপি তিনি বাংলায় সাহিত্য চর্চা করেছেন, করছেন। আলোচনায় তিনি তাঁর ‘মহানদী’ উপন্যাস রচনার উৎসাহ ও প্রেক্ষাপট সুন্দর করে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন উপন্যাসটি লিখতে তাঁর চার বছর সময় লেগেছে। এবং তিনি নদীর উৎস থেকে মোহানা পর্যন্ত দীর্ঘ পথে বেশ কয়েকবার যাতায়াত করেছেন।
সাহিত্যিক ঝরেশ্বর চট্টোপাধ্যায় তাঁর কয়েকটি গল্পের রচনা রসদ কিভাবে লাভ করেছিলেন তা বুঝিয়ে বলেন।

