কলকাতা 

স্থায়ী কর্মী নিয়োগ নয়, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের মাধ্যমে সরকার অনুমোদিত গ্রন্থাগারগুলির সচল করার যে সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার নিয়েছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানালো স্টুডেন্ট ফ্রন্ট

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন: রাজ্যের গ্রন্থাগার গুলি কর্মীর অভাবে প্রায় বন্ধের মুখে। অথচ গ্রন্থাগার মন্ত্রী আছেন, দফতর আছে এবং সেই দফতরের বাজেট বরাদ্দ হয়। কিন্তু গ্রন্থাগার গুলি থাকলেও তা কর্মীর অভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কিছুদিন আগে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল গ্রন্থগার গুলিতে কর্মী নিয়োগ করা হবে। কিন্তু সেই ঘোষণা ঘোষণায় থেকে গেছে। এখনো পর্যন্ত লাইব্রেরি সায়েন্সের ডিগ্রিধারী কাউকেই গ্রন্থাগার গুলিতে নিয়োগ করার ফরমান জারি হয়নি। বরং কিছু স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। আর এ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে স্টুডেন্ট ফ্রন্ট। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট এর ছাত্র শাখা স্টুডেন্ট ফ্রন্ট এর পক্ষ থেকে এক প্রেস বিবৃতিতে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে লেখা হয়েছে।

“জ্ঞান অর্জনের পাঠশালা বন্ধ; আমরা ভাতা ও ভিক্ষাতে নিমজ্জিত। লাইব্রেরি সায়েন্সে ডিগ্রী ধারীদের চাকরির আশায় জল ঢেলে গ্রন্থাগারে বেতনহীন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। রাজ্যের কাছে গ্রন্থাগার সচল রাখার মতো অর্থ নেই, কোষাগার শূন্য, রাজ্যের ২৩ টি জেলার গ্রামীন গ্রন্থাগারে ৭৩৮টি গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগের কথা ছিল, প্রায় দু’বছর হতে চলেছে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি, স্টুডেন্টস ফ্রন্ট মনে করে রাজ্য সরকারের এই অনৈতিক সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ শিক্ষা বিরোধী।

খেলা-মেলা, উৎসবে অনুদান ও খয়রাতির ক্ষেত্রে কোষাগারে টান পড়ে না? জাতির মেরুদন্ড তৈরি করার কারখানা সচল রাখতে কেন কোষাগারে টান পরে রাজ্যের? কার্পণ্য শুধু নিয়োগের ক্ষেত্রেই? লাইব্রেরী থেকে তৃণমূলের কামাই নেই, এটাই সবথেকে বড় কারণ? নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলরদের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হবে। আর বিনা পারিশ্রমিকে লাইব্রেরির কর্মী নিয়োগের ভাবনা করা হবে। আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করছি।

প্রসঙ্গত রাজ্যে প্রায় ২৪৮০টি গ্রন্থাগারের মধ্যে ১২০০র বেশি গ্রন্থাগার বন্ধ হয়ে গিয়েছে কর্মীর অভাবে। অথচ শূন্যপদ রয়েছে চার হাজারের বেশি। স্টুডেন্টস ফ্রন্টের দাবী – স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে নয় বরং শূন্য পদে নিয়োগ করে গ্রন্থাগার পরিচালনা করতে হবে এবং সমস্ত বন্ধ হয়ে যাওয়া গ্রন্থাগার গুলির প্রাণ সঞ্চার করতে হবে, বন্ধ হয়ে যাওয়ার মুখে যে সকল গ্রন্থাগার সেগুলির পুনর্জাগরণ ঘটাতে হবে। নচেৎ, আগামীদিনে গ্রন্থাগার বাঁচানোর স্বার্থে স্টুডেন্টস ফ্রন্ট রাজ্য জুড়ে আন্দোলন গড়ে তুলবে।”


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ