অন্যান্য 

Nandigram Movement : নন্দীগ্রাম আন্দোলন নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ভুল কিছু বলেননি, সংখ্যালঘু ও দলিতদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে মমতা সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল

শেয়ার করুন

সেখ ইবাদুল ইসলাম : গত ২২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার জাতীয় গ্রন্থাগারের ভাষা ভবনে বিজেপির ওবিসি মোর্চার এক সভায় নন্দীগ্রাম আন্দোলনকেই বাম সরকারের পতনের মূল কারণ বলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেছেন । ইতিমধ্যে এই মন্তব্য নিয়ে তৃণমূল দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সমালোচনা করেছেন । ঘটনা হচ্ছে কুণালবাবুরা অস্বীকার করলেও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের ফলেই বাম সরকারের পতন সুনিশ্চিত হয়। এটা  যাঁরা অস্বীকার করছেন, তাঁরা আসলে ইতিহাসকে অস্বীকার করছেন । দলিত এবং সংখ্যালঘু সমাজের অবদানকে অস্বীকার করছে । মনে রাখতে হবে, নন্দীগ্রামের আন্দোলনের সঙ্গে সংখ্যালঘু সমাজের আবেগ জড়িত ছিল । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরাগীরা যদি এটা অস্বীকার করেন তাহলে বুঝতে হবে, এই রাজ্যের  বাঙালি মুসলিম সমাজকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে ।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অনেক বক্তব্যের সঙ্গে আমরা একমত নই, এটা ঠিকই কিন্ত নন্দীগ্রাম নিয়ে তিনি যা বলেছেন সেটা অতি বাস্তব । সিঙ্গুর আন্দোলন শেষ হয়ে গিয়েছিল । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক নাগাড়ে ধর্মতলার অনশন করার পরেও সিঙ্গুরে টাটারা কারখানা নির্মাণ বন্ধ করেনি । কারখানার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল এটা আমাদের সকলের জানা । প্রাচীর দিয়ে টাটার এলাকার ঘেরার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল । সিঙ্গুর আন্দোলনে যেটুকু জমি তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল সেটা হুগলি জেলার কৃষক নেতা অনিল বসু বনাম রাজ্য নেতৃত্বের কিছু নেতার মধ্যে দ্বন্দ্বের ফলে । তাই আমরা দেখেছিলাম ক্ষমতায় আসার পর সিপিএমের অনেক নেতার বিরুদ্ধে মমতা সরকার ব্যবস্থা নিলেও অনিল বসু সম্পর্কে নিরব ছিল । সিঙ্গুর আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতা যখন শেষ হয়ে গেছে, ঠিক তখনই নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরে আন্দোলন শুরু হয় । আবদুস সামাদের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়েছিল । এটা অস্বীকার করতে পারবেন কুণালবাবুরা !

আর নন্দীগ্রাম আন্দোলনের নেপথ্যে ছিল জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ । জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের আন্দোলন যখন তীব্র আকার ধারণ করেছে, লক্ষণ শেঠের বিরুদ্ধে জনমত যখন তীব্র হয়েছে ঠিক তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে গিয়েছিলেন । তার আগে নয় । ইতিহাস বলছে, স্বাধীনোত্তর ভারতে যত বার এই বাংলায় সরকার পরিবর্তন হয়েছে তত বারই সংখ্যালঘু বাঙালি মুসলিমরা সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে । অস্বীকার করতে পারবেন কুণালবাবুরা ! সুতরাং আজ যাঁরা নন্দীগ্রাম আন্দোলনকে অস্বীকার করছেন তাঁরা এই রাজ্যের সংখ্যালঘু ও দলিত সমাজকে অপমান করছে । যাদের আত্মত্যাগকে সামনে রেখে ক্ষমতার অলিন্দে প্রবেশ করেছিল সিপিএম বা বামফ্রন্ট যেদিন তাদেরকে অস্বীকার করেছিল বামেরা সেদিন তাদের পতন সুনিশ্চিত হয়ে যায় । একই শব্দধ্বনি শোনা যাচ্ছে তৃণমূলের এক নেতার মুখে । দয়া করে আর যাই করুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার মানুষের কাছে ভিলেন করবেন না ! উদ্দেশ্য লক্ষ যাই থাকুক, অস্বীকার করবেন না নন্দীগ্রামকে । নন্দীগ্রাম লড়াইয়ের , সংগ্রামের নাম । নন্দীগ্রামের মানুষের রক্তের বিনিময়ে বাংলায় বামেদের পতন সুনিশিচত হয়েছিল । বাঙালি মুসলিমকে অনেক অগ্রাহ্য করছে আজকের শাসক দল, দয়া করে নন্দীগ্রাম আন্দোলনকে অস্বীকার করবেন না ।

আর বিজেপি নেতাদের কাছ বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আমাদের অনুরোধ, মনে রাখবেন এই রাজ্যে ক্ষমতায় আসার জন্য বুলডোজারের ভয় দেখাবেন না । কারণ বাঙালি মুসলিম সমাজের দশ শতাংশ ভোট হাসিল করতে না পারলে বাংলায় ক্ষমতায় আসা সম্ভব হবে না । এটা অসম বা উত্তর প্রদেশ নয়, এটা বাংলা । এখানে বাঙালি মুসলিম ভোট এবং দলিত ভোটের বড় অংশ না পেলে ক্ষমতায় আসতে পারবে না কোনো দলই ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ