জেলা 

আবাস যোজনায় দূনীর্তি চরমে পৌছেছে, চারতলার বাড়ির মালিকের স্ত্রী এবং মৃত বাবার নাম আবাস যোজনায়,বর্ধমানের খন্ডঘোষের এই ঘটনা সামনে আসতেই পঞ্চায়েত দূনীর্তির পর্দা ফাঁস ! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী পারবেন দূনীর্তিগ্রস্থদের দল থেকে বিতাড়িত করতে?

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক :  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন আবাস যোজনার দূনীর্তি নিয়ে তদন্ত করা হবে । একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নবান্ন । মুখ্যমন্ত্রী নিজের ভাবমূর্তি ফেরানোর লক্ষ্যে এই তদন্ত শুরু করলেও তা কতটা বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে । কারণ পঞ্চায়েত নির্বাচনের মুখে এই তদন্ত যে আইওয়াশ ছাড়া যে কিছুই নয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না । বাংলার জনরব রীতিমতো চ্যালেঞ্জ মমতা সরকারের দাবি করছে এমন কোনো পঞ্চায়েত নেই যেখানে আবাস যোজনায় দূনীর্তি হয়নি । সব পঞ্চায়েতেই ভাল রকম দূনীর্তি হয়েছে এ কথা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না । মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অস্বীকার করতে পারবেন না । আর এই সব দূনীর্তির সঙ্গে যুক্ত আছেন পঞ্চায়েত প্রধান -উপপ্রধান , পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহ একাধিক নেতা নেত্রী। সুতরাং এই সব তদন্ত আইওয়াশ ছাড়া কিছুই নয় । আবাস যোজনা ও একশো দিনের কাজের দূনীর্তিতেই মমতা সরকারকে আগামী দিনে যে জনবিচ্ছিন্ন করে তুলবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই ।  আবাস যোজনা দূনীতি কতটা গভীরে গিয়ে পৌছেছে তা আনন্দবাজার ডিজিটালে প্রকাশিত এক সংবাদ থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় ।

চারতলা বাড়ির মালিক পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের স্ত্রীর নাম রয়েছে আবাস যোজনার সদ্য প্রকাশিত তালিকায় । শুধু তা-ই নয়, নাম রয়েছে উপপ্রধানের প্রয়াত বাবারও। অথচ, যাঁদের নাম থাকার কথা, এলাকায় যাঁদের মাটির ঘর, নাম নেই তাঁদেরই! যা নিয়ে জোর বিতর্ক দানা বেঁধেছে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে। উপপ্রধানের বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন তৃণমূলের স্থানীয় কর্মী-সমর্থকেরাই।

ঘটনাচক্রে, পঞ্চায়েত কর্মীরা আবাস প্রকল্পের যে তালিকা তৈরি করেছিলেন, এখন বাড়ি গিয়ে তারই সমীক্ষা করার সময় বিপুল অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে রাজ্য জুড়ে। গত মাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রশাসনিক কর্তাদের সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘‘যার চার তলা বাড়ি রয়েছে, সে বাংলার বাড়ি পেয়ে গেল, আর যার কিছু নেই, সে পেল না। এটা চলবে না।’’ আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের দাবি, সমীক্ষা করতে গিয়ে ঠিক এই ছবিই উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। সেই তালিকায় নয়া সংযোজন খণ্ডঘোষের শাঁকারি গ্রাম পঞ্চায়েতের কেশবপুর গ্রাম। এই বিতর্ক প্রসঙ্গে জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা বলেন, ‘‘খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বেনিয়ম হলে তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে।’’ খণ্ডঘোষের বিডিও সত্যজিৎ কুমারের অবশ্য দাবি, ‘‘সব নামই বাতিল করা হয়েছে।’’

অভিযোগ, গরিব হলেও আবাস যোজনায় বাড়ি পাচ্ছেন না গ্রামের মানুষ। অথচ, আবাস যোজনার তালিকায় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জাহাঙ্গির শেখের স্ত্রী সীমা শেখ, মৃত বাবা শেখ মহসিন, দুই ভাই আমনগীর শেখ এবং আজমগীর শেখের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। স্থানীয় বাসিন্দা রহমত তুল্লা বলেন, ‘‘আমাদের মাটির বাড়ি। আমরাই বঞ্চিত। অনেকের মাটির বাড়ি ভেঙে গিয়েছে। তাঁদের নামও তালিকায় নেই।’’

এ ব্যাপারে জাহাঙ্গিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমি দলের কাজে ব্যস্ত থাকি। অফিসে খুব একটা যাই না। কে বা কারা তালিকা তৈরি করেছে, আমার জানা নেই। বিষয়টি নজরে আসা মাত্র নাম বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছি।’’ এই ‘অনিয়ম’-এর সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছে পঞ্চায়েত প্রধান শিউলি খাঁ। জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধেই আঙুল তুলে তিনি বলেন, ‘‘আমাকে কোনও কাজ করতে দেওয়া হয়নি। পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে আমাকে। জাহাঙ্গির শেখ নিজের ইচ্ছে মতো সব করছেন। এখানে আমার কোনও ভূমিকাই নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গোটাটা জানিয়েছি।’’

একটা জাহাঙ্গির নয়, এরকম রাজ্য জুড়ে হাজার হাজার জাহাঙ্গির রয়েছেন যারা আবাস যোজনা থেকে শুরু করে একশো দিনের কাজ এমনকি বিধবা ভাতা এবং লক্ষীর ভান্ডারের টাকা আত্মসাৎ করে চলেছেন । নিরব প্রশাসন । নিরব সরকার । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পারবেন আপনার এই সব দূনীর্তিগ্রস্থ দলীয় নেতা কর্মীদের শাস্তি দিতে । তা না হলে আাগামী দিনে আপনাদের অবস্থা বামেদের মতোই হবে ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ