জলাশয় থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে জাঙ্গিপাড়ার সাধারণ মানুষ
বাংলার জনরব ডেস্ক : হুগলির জাঙ্গিপাড়ার শ্রীহট্ট এলাকার এক নাবালিকার জলাশয় থেকে দেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘিরে রবিবারও উত্তেজনা দেখা গেলো এলাকায়। শনিবার শ্রীহট্ট এলাকার একটি ঝিল থেকে উদ্ধার করা হয় ওই কিশোরীর দেহ। কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। দশমীর রাত থেকে নিখোঁজ ছিল সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রী।
আজ রবিবার সকালে শ্রীহট্ট গ্রামে যান হুগলি জেলা কংগ্রেসের ১২ জনের একটি প্রতিনিধি দল। তাঁদের দেখামাত্র ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন গ্রামবাসীদের একাংশ। তাঁরা ওই প্রতিনিধি দলটিকে তাড়া করেন। ক্ষোভের মুখে পড়ে গ্রামে ঢুকতে পারেননি কংগ্রেসের ওই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁরা এই মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি চান না। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এক জন বলেন, ‘‘ঘটনার সময় কাউকে পাশে পাওয়া যায়নি। এখন ওরা লাশের রাজনীতি করতে এসেছে।’’
ওই গ্রামের এক মহিলা বলেন, ‘‘এখানে রাজনীতি করা যাবে না। আমরা বিচার চাই। কোনও পার্টি এখানে এলে হবে না। যে আসবে তাকে মেরে থেঁতো করে দেব। আজ লক্ষ্মীপুজো। অথচ ঘরের লক্ষ্মী চলে গিয়েছে। গ্রামের মহিলারা ক্ষেপে গিয়েছে।’’
নাবালিকার জেঠু বলেন, ‘‘কোনও রাজনৈতিক দলকে আমরা গ্রামে ঢুকতে দিচ্ছি না। যখন মেয়েটি হারিয়ে গিয়েছিল তখন কোনও দল আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি। এখন ওদের আসার প্রয়োজন নেই। প্রশাসন যা করার করছে।’’
শেষ পর্যন্ত পুলিশি প্রহরায় গ্রাম ছাড়েন কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। প্রতিনিধি দলে থাকা উত্তরপাড়ার কংগ্রেস কাউন্সিলর কামাখ্যা সিংহ বলেন, ‘‘ওদের জন্য আমরা এসেছিলাম। কিন্তু মানুষকে আমরা বোঝাতে পারিনি।’’
হুগলি গ্রামীণের পুলিশ সুপার আমনদীপ জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর জানা যাবে মৃত্যুর কারণ। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

