প্রাক মাধ্যমিক : শরীর ও মনের পরিচর্যা শীর্ষক ভার্চুয়াল আলাপচারিতায় ছাত্র-ছাত্রীদের ও অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ দিলেন মনোবিদ অধ্যাপক গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়
আখের আলী সর্দারের প্রতিবেদন : করোনা ভাইরাসের দাপটে বিগত দুবছর স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে দূরে সরে গিয়েছিল সারা বিশ্ব। অত্যন্ত আশার কথা, ধীরে ধিরে আবার ছন্দে ফিরে আসছে। দীর্ঘ দিন ধরে বিদ্যালয়মুখী না হতে পেরে, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, পড়াশোনায় ছেদ পড়েছে একাংশের। আবার পরীক্ষা পর্বের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া থেকে কিছুটা দূরে হলেও চলে গেছে ছাত্রছাত্রীরা। এরকম অবস্থায় আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে চলেছে রাজ্যের এগারো-বারো লক্ষ ছাত্র ছাত্রী। তাই তাদের মনে সাহস যোগাতে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কেমন হবে, শেষ মুহূর্তের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে সাতটি বিষয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষক শিক্ষিকারা তাদের নিয়ে ভার্চুয়ালি কর্মশালায় অংশ নেন এবং প্রতিদিন কর্মশালার পর এমসিকিউ প্রশ্নের পরীক্ষা নেওয়া হয়।
এক সপ্তাহব্যাপী সাতটি বিষয় নিয়ে কর্মশালা ও পরীক্ষা পর্বের পর গত মঙ্গলবার 15 ফেব্রুয়ারি অনলাইনে আয়োজন করা হয় কাউন্সেলিং পর্ব। মূলত ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়াতে নিজের শক্তিকে উজাড় করে দিতে এগিয়ে আসার আহ্বান নিয়ে ছিল এই অনুষ্ঠান। এর মুখ্য বিষয় ছিল, আপনাকে করো উন্মোচন। এদিনের মূল আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট মনোবিদ অধ্যাপক গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত দান করেন মনোবিদ ও শিক্ষিকা শুভ্রা চক্রবর্তী।


মনোবিদ ও শিক্ষিকা শুভ্রা চক্রবর্তী
পরীক্ষার্থীদের কাছে এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ তারা স্কুলে গিয়ে পরীক্ষার মতো করে বার্ষিক বা টেস্ট পরীক্ষার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেনি। তাই, তারা পরীক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে নিজেদেরকে কীভাবে মানিয়ে নিয়ে কলমকে চালিয়ে নিয়ে যাবে পরীক্ষার খাতায় তা নিয়ে নানারকম উদ্বেগ ও চিন্তা অভিভাবকদের। গুরুত্বপূর্ণ নানান সংশয়, উদ্বেগ ও প্রশ্নের মাধ্যমে গৌতমবাবুর নিকট অনেকটা আশ্বস্ত হয়ে ওঠেন অভিভাবকেরা এবং অবশ্যই স্বস্তি পায় ছাত্রছাত্রীরা। গৌতম বাবু বলেন, কোভিডে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি আমরা, একথা ঠিক। তবে তা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নতুন পথের দিশাও দেখিয়েছে। তিনি বলেন, ব্যর্থতা না এলে, বাধা-বিঘ্ন সামনে না এলে, প্রকৃত সাফল্য আসেনা। প্রতিটি সফল জীবনে এই চিত্র দেখা যায়। সুতরাং আজকের এই ছাত্র-ছাত্রীরা আগামী দিনে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে একটু এগিয়েই রইলো। যে প্রতিবন্ধকতাই আসুক না কেন, তারা তার মোকাবিলা করার ক্ষমতা ও কৌশল অনেকটাই শিখে নিয়েছে এই কোভিড থেকে।

কৃষি বিজ্ঞানী মতিয়ার রহমান খান
অতিমারির এই দুঃসময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে নানাভাবে পাঠদান, পাঠ্য অংশ নিয়ে পরীক্ষাপর্ব পরিচালনা, এক কথায় পড়াশুনা নিয়ে চর্চার মধ্যে রাখার যে একান্ত কৌশল অবলম্বন করেছিল অনুসন্ধান কলকাতা, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। এই অনুশীলন আগামী দিনেও খুবই কার্যকর হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে মত পোষণ করেন। তিনি বলেন অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পরিচালনায় ছাত্র-ছাত্রীদের এই ধরনের অনুশীলন অত্যন্ত প্রশংসার যোগ্য। কোভিড কালে যে অংশটুকু পিছিয়ে পড়েছে ছাত্রছাত্রীরা তার পুনরুদ্ধার করবে কীভাবে, মনোবিদ শুভ্রা চক্রবর্তীর এই প্রশ্নের জবাব অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রদান করেন গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়।

সংগীতশিল্পী অরিত্রী সাহু
এরপর অনুসন্ধান কলকাতার পরিচালনায় মাধ্যমিক ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে সমগ্র কর্মসূচি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অনুসন্ধান কলকাতার মুখ্য পরামর্শদাতা অধ্যাপক মতিয়ার রহমান খান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে যেভাবে অভিজ্ঞ শিক্ষক শিক্ষিকারা এগিয়ে এসেছেন এবং প্রতিদিন তাঁদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহ যোগাতে উপস্থিত থেকেছেন সমাজের বিভিন্ন পেশার গুণীজনেরা, তা এককথায় অনবদ্য। এর জন্য প্রত্যেককে অভিবাদন জানান তিনি। সভার সঞ্চালক বিশিষ্ট শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরখেল ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে আসন্ন মাধ্যমিকে সাফল্য কামনা করে শুভকামনা জ্ঞাপন করেন। এদিনের অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনা করেন অরিত্রী সাহু।

