শ্রীরামপুরে মমতার সভায় যাওয়ার পথে আক্রান্ত কুনাল ঘোষ, গাড়ি ভাঙচুর ছোড়া হলো ডিম! নালিশ জানাতে ভবানী ভবনে তৃণমূল বিধায়ক!
হুগলির শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। অভিযোগ, পথে উত্তরপাড়ায় তাঁর গাড়ি আটকে ভাঙচুর করা হয়েছে। পাথর, রড দিয়ে হামলার পাশাপাশি, ডিমও ছোড়া হয়েছে। কুণাল জানিয়েছেন, মমতার সভায় যাতে তিনি যেতে না পারেন, তাই এ সব করা হয়েছে। বিধায়কের হুঁশিয়ারি, এ সব করে তাঁকে থামানো যাবে না। তিনি বলেন, গাড়ি ঘুরিয়ে সটান যাবেন ভবানী ভবনে। সেখানে গিয়ে পুলিশকে দেখাবেন ‘গুন্ডারাজ কেমন চলছে’।
সভার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ঘটনার নিন্দা করেছেন মমতা। তিনি দাবি করেছেন, ‘বিজেপির গুন্ডারা’ এ সব করেছে। এটা ‘গণতন্ত্রে অশনিসঙ্কেত’। বিজেপি সাংসদ রাহুল সিংহ জানিয়েছেন, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই এ সব ঘটেছে। এর সঙ্গে বিজেপির যোগ নেই।
শ্রীরামপুরে শনিবার বিকেলে জনসভা করবেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। সেখানেই যোগ দিতে যাচ্ছিলেন কুণাল। অভিযোগ, উত্তরপাড়া সখের বাজারে কুণালের গাড়ি আটকে দাঁড়িয়ে পড়েন কয়েক জন। তার পরে লাগাতার পাথর, ডিম ছুড়তে থাকেন। লোহার রড দিয়ে আঘাত করতে থাকেন গাড়ির কাচে। কুণাল জানান, তাঁর গাড়ির পিছনের কাচ ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘চালকের পাশে বসি আমি। আমাকে নিশানা করে পাথর ছোড়া হয়। আমার শরীর কাচে ভর্তি।’’ গাড়ির কাচ ভাঙছিল না দেখে বড় বড় পাথর এনে ছোড়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কুণাল।
কুণালের কথায়, ‘‘ওদের মুখে ছিল একটাই কথা, গো ব্যাক। মমতার সভায় যাওয়া যাবে না।’’ তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘সাধারণ নাগরিকের মতো একজন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন। সেই গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর, ডিম ছোড়া হল।’’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, গাড়ি ঘুরিয়ে সোজা চলে যাবেন ভবানী ভবনে। তাঁর কথায়, ‘‘চেষ্টা করছি ভবানী ভবনে ঢুকব সটান। দেখুক (পুলিশ) গুন্ডারাজ কেমন চলছে। পুলিশ গুন্ডাদের না সরালে যাওয়া সম্ভব নয়।’’ তবে তিনি এ-ও জানিয়েছেন, এ সব করে মমতাপন্থীদের থামানো যাবে না। ঘটনার নিন্দা করেছেন মমতা। জানিয়েছেন, তৃণমূলকর্মীদের আটকাতেই এ সব করা হচ্ছে। কুণালের উপরে হামলা করা হয়েছে। তিনি আহত হয়েছেন।
বিকেলে শ্রীরামপুর কোর্টের মাঠে সভা করবেন মমতা। পুলিশের অনুমতি না মেলায় তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিকেল ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ এক হাজার লোক নিয়ে সভা করার অনুমতি আদালত দিয়েছে। গত দু’দিন ধরে মাঠে তার প্রস্তুতি চলছিল। মঞ্চ বাঁধা হয়েছে ডেনিস গভর্নর হাউসের সামনে।

