কলকাতা 

প্রতীক বিতর্কে মমতার আর্জিতে দ্রুত শুনানি করতে উদ্যোগী সুপ্রিম কোর্ট!

শেয়ার করুন

তৃণমূলের দুই শিবিরের দ্বন্দ্বে আপাতত অবিভক্ত দলের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ়’ করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর তরফ থেকে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান আইনজীবী কপিল সিব্বল। তার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানায়, সব পক্ষকে জানানো হোক। দ্রুত শুনানির চেষ্টা করা হবে।

কালীঘাট এবং ঋতব্রত শিবিরের দ্বন্দ্বের মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে জানানো হয়, আপাতত দলের নাম হিসেবে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক জোড়াফুল ‘ফ্রিজ়’ করছে তারা। কমিশন জানিয়ে দেয়, তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ আপাতত তাদের সিন্দুকে জমা রাখা হচ্ছে। দল কার, আসল তৃণমূল কে, দলের তহবিলের মালিকানা কোন গোষ্ঠীর— ইত্যাদি চূড়ান্ত হওয়ার পরেই সেই সিন্দুকের তালা খোলা হবে।

৬ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের আগে শুক্রবার দুই শিবিরের অন্তর্বর্তিকালীন নাম এবং প্রতীক চূড়ান্ত করে কমিশন। মমতা শিবিরের নাম হয় ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। তারা আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচনে লড়ছে ফুটবল পায়ে ফুটবলার প্রতীকে। ঋতব্রত তৃণমূলের নাম হয় ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’। তারা লড়ছে খাম চিহ্নে।

প্রতীক এবং দলের নাম হাতছাড়া হওয়ার পর মমতা বলেন, “গণতন্ত্রের ইতিহাসে কালো দিবস। রাজ্য রাজনীতিতে যা ঘটছে, তা দুর্ভাগ্যজনক, অসাংবিধানিক, গণতন্ত্র-বিরোধী এবং রাজনৈতিক ভাবে পক্ষপাতদুষ্ট।” নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন মমতা। এই প্রসঙ্গে শিবসেনা, এনসিপি কংগ্রেসের ভাঙনের কথা তুলে ধরেন। মমতা বলেন, ‘‘আমাদের আগে উদ্ধব ঠাকরের দলের প্রতীক কেড়েছে। এনসিপি-কে ভেঙেছে। এ বার আমাদের!’’ নাম না-করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন তৃণমূলনেত্রী।

তার পরেই প্রতীক-বিতর্কে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যান রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট মামলায় যুক্ত করা হয় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ