এবার নজরে সিভিক ভলান্টিয়ার! কার্যাবিধির বিচার হবে তিন মাস অন্তর জারি নির্দেশিকা
সিভিক ভলান্টিয়ারেরা কী করবেন, কী করতে পারবেন না— তা জানিয়ে আদর্শ আচরণবিধি (এসওপি) প্রকাশ করল কলকাতা পুলিশ। তাতে জানানো হয়েছে, কাজে অবহেলা, চাঁদা আদায় বা অন্য কোনও ফৌজদারি মামলায় নাম জড়ালে সেই সিভিক ভলান্টিয়ারকে সাসপেন্ড বা স্থায়ী ভাবে কাজ থেকে বরখাস্ত করা যাবে। আচরণবিধি না মানলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। সিভিক ভলান্টিয়ারেরা কেমন কাজ করছেন, তা নিয়ে ঊর্ধ্বতনকে তিন মাস অন্তর রিপোর্ট দিতে হবে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে।
২০২৪ সালে আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে। তিনি বর্তমানে সাজাপ্রাপ্ত। ওই ঘটনার আগে এবং পরে বিভিন্ন সময়ে সিভিকদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ‘নো-এন্ট্রি’ চলাকালীন ট্রাক ঢোকানো ও ব্যক্তিগত গাড়ি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘটনাতেও নাম জড়িয়েছে সিভিক ভলান্টিয়ারদের। বিধাননগর ট্র্যাফিক গার্ডের এক সিভিক ভলান্টিয়ার, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের এক হোমগার্ড এবং হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয় থানায়। চলতি মাসেই ঝাড়খণ্ডের ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে কলকাতার এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে। এই ঘটনাগুলির পর সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই নতুন আদর্শ আচরণবিধি প্রকাশ করল কলকাতা পুলিশ।
১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সেই আদর্শ আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, কোনও সিভিক ভলান্টিয়ার দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, শৃঙ্খলাভঙ্গ, ফৌজদারি মামলায় নাম জড়ালে, অনুমতি না নিয়ে কাজের জায়গায় দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলে, দুর্নীতি বা চাঁদা আদায়, অবমাননাকর আচরণ করলে তাঁকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড বা বরখাস্ত করা যাবে। শারীরিক ভাবে অক্ষম হলে বা চিকিৎসার কারণে কর্তব্য পালন করতে না পারলেও একই পদক্ষেপ করতে পারবেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার, হোমগার্ড অর্গানাইজেশন।
কোনও সিভিক ভলান্টিয়ার কাজে অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বা ইউনিট ইন-চার্জকে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। অনুমতি ছাড়া সিভিক ভলান্টিয়ার কাজে টানা সাত দিন না এলে তাঁকে প্রথমে নোটিস দেওয়া হবে। নোটিসটি তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হবে। তার সাত দিন পরে তাঁকে চূড়ান্ত নোটিস পাঠিয়ে অনুপস্থিতির কারণ দর্শাতে বলা হবে। দ্বিতীয় নোটিসের জবাব না দিলে বা সেই জবাব সন্তোষজনক না হলে ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে স্থায়ী ভাবে ডিমোবিলাইজ করা যেতে পারে। তবে সেই কর্মী অসুস্থ হলে বা পরিবারে কারও মৃত্যু হলে তা বিবেচনা করতে হবে। তার পরেই নেওয়া যাবে চূড়ান্ত পদক্ষেপ। সিভিক ভলান্টিয়ারেরা কেমন কাজ করছেন, তা নিয়ে তিন মাস অন্তর ডেপুটি কমিশনার এবং হোমগার্ড অর্গানাইজেশনকে রিপোর্ট দেবেন প্রত্যেক থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক।

