কলকাতা 

মুখ্যমন্ত্রীর তৎপরতায় ডেঙ্গি নিয়ে আরও তৎপর স্বাস্থ্য দফতর জারি করল নির্দেশিকা

শেয়ার করুন

মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে পর্যালোচনা বৈঠকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডেঙ্গু-নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। বুধবারের নির্দেশিকায় বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন, উপসর্গযুক্ত ব্যক্তিদের রক্তপরীক্ষার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে। পুর এলাকাগুলির পাশাপাশি জেলাস্তরে ডেঙ্গি মোকাবিলায় কী কী করণীয়, তার কার্যপদ্ধতি স্থির করে দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গির মরসুম শুরু হয়ে গেলেও মশার লার্ভা নিধন, এলাকার কেউ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন কি না সে বিষয়ে খোঁজ যাঁরা করতেন, সেই স্বাস্থ্যকর্মীদের ভিন্ন কাজে ব্যস্ত রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠছে। চিকিৎসক, আশাকর্মীদের বক্তব্য, আয়ুষ্মান ভারতের কাজ করতেই তাঁরা ব্যস্ত থাকছেন। অভিযোগের এই আবহেই বুধবারের নির্দেশিকা। এ দিনের নির্দেশিকায় ডেঙ্গির পাশাপাশি ম্যালেরিয়ার পরীক্ষা করানোর উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির নিরিখে আক্রান্তদের বিনামূল্যে রক্তপরীক্ষার ব্যবস্থা করার জন্যও জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। পুরসভা, জেলার জন্য আলাদা করে নির্দেশিকার পাশাপাশি ডেঙ্গি রোগীদের কখন হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে তা-ও বলা হয়েছে এ দিনের নির্দেশিকায়।

স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ:

* গ্রাম, শহর, মফস্সল শহর-সহ সর্বত্র বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরের রোগীর খোঁজ করবেন আশাকর্মীরা।

* ৪৮ ঘণ্টার বেশি জ্বরে আক্রান্ত রোগীর খোঁজ পেলে বাধ্যতামূলক ভাবে তা এএনএম বা মেডিক্যাল অফিসারের নজরে আনতে হবে।

* জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তপরীক্ষার পরামর্শ দেবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

* সমস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে এলিসা পরীক্ষার ব্যবস্থা করবেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা।

* সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিকাঠামো না থাকলে নিখরচায় বা কম টাকায় বেসরকারি ল্যাব থেকে ডেঙ্গি পরীক্ষার ব্যবস্থা করবেন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাহায্য নেওয়ার নির্দেশ।

* ডেঙ্গির উপসর্গযুক্ত ব্যক্তিদের রক্তপরীক্ষা করানোর জন্য ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাপক প্রচার।

* ডেঙ্গি সচেতনতার কাজেও চলবে প্রচার।

* প্রতিদিন জ্বরে আক্রান্ত কত ব্যক্তির খোঁজ মিলল, কত জনের ডেঙ্গি পরীক্ষা করানো হয়েছে, তা রিপোর্ট আকারে স্বাস্থ্য ভবনকে জানাতে হবে।

* ডেঙ্গি আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ সাফাই অভিযান।

* এলাকায় ডেঙ্গি আক্রান্তের খোঁজ মিললে খুঁজে বার করতে হবে উৎসস্থল।

* প্রয়োজন অনুযায়ী মশা মারার ওষুধ, থার্মাল ফগিংয়ের ব্যবহার।

* জ্বরের প্রকোপ বাড়লে সংশ্লিষ্ট এলাকায় চালু হবে ‘ফিভার ক্যাম্প’।

* জেলা, ব্লক বা পুরসভা এলাকায় জ্বরের প্রকোপ, ‘হটস্পটে’র সন্ধানে চিকিৎসা শিবির।

* সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে ‘ফিভার ক্যাম্প’।

* চিকিৎসা শিবিরে মেডিক্যাল অফিসার, নার্স, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের থাকতে হবে।

* প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

* ডেঙ্গির পাশাপাশি জ্বরে আক্রান্ত রোগীর ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করানোরও নির্দেশ।

ডেঙ্গি আক্রান্তদের জন্য স্বাস্থ্য ভবনের পরামর্শ:

* রিপোর্টে কী এল তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীকে জানাতে হবে।

* রক্তপরীক্ষার রিপোর্টে সিবিসি, পিসিভি’র পাশাপাশি প্লেটলেটের মাত্রার উল্লেখ থাকতে হবে।

* প্লেটলেটের সংখ্যা ৫০ হাজারের নীচে হলে স্লাইড মেথডে রিপোর্টে সুনিশ্চিত করার নির্দেশ।

* আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানোর পরিস্থিতি হলে তৎপরতার সঙ্গে পদক্ষেপ করতে হবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ