প্রাপ্ত নম্বরে কারচুপি হয়েছে, পাওয়ার কথা ৬৫৯,পেয়েছে ২৮৯ কেন? দ্রুত জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট, হুগলির এই পরীক্ষার্থীর দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য দেশজুড়ে
ডাক্তারির প্রবেশিকা নিট ইউজি-র প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দিল্লিতে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ চলছে। এই আবহে ওই পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরে কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়ে হাই কোর্টে মামলা করলেন হুগলির পরীক্ষার্থী। তিনি তাঁর ওএমআর পুনরায় যাচাই করানোর আবেদনও জানিয়েছেন। এই মামলায় দ্রুত ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র জবাব চাইলেন বিচারপতি অমৃতা সিংহ। তিনি জানিয়েছেন, দেশে ডাক্তারিতে ভর্তির কাউন্সেলিং চলছে। তাই দ্রুত আদালতে বক্তব্য জানাতে হবে এনটিএ-কে। আগামী মঙ্গলবার মামলার পরবর্তী শুনানি।
মামলাটি করেন হুগলির ডানকুনির পরীক্ষার্থী শ্রেয়া মহান্তি। মামলাকারীর দাবি, ২১ জুনের পরীক্ষায় তাঁর সিরিয়াল নম্বরের ‘আনসার কি’-র সঙ্গে তাঁর ওএমআরের কোনও মিল নেই। মামলাকারীর দাবি, ‘আনসার কি’ অনুযায়ী তাঁর পাওয়ার কথা ছিল ৬৫৯ থেকে ৬৬১ নম্বর। কিন্তু এনটিএ-র প্রকাশিত ফলে দেখা গিয়েছে, তিনি মাত্র ২৮৯ নম্বর পেয়েছেন। ‘আনসার কি’-র সঙ্গে প্রায় ৩৭০ নম্বরের ফারাক। এই নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
নিটের প্রবেশিকায় মোট নম্বর ৭২০। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ৪ নম্বর ধার্য থাকে। ভুল উত্তরে এক নম্বর করে কাটা হয়। উত্তর না দিলে ওএমআরে শূন্য নম্বর দেওয়া হয়। সিরিয়াল নম্বর অনুসারে এক এক পরীক্ষার্থী এক এক রকম ওএমআর পান। সেই অনুসারে মূল্যায়ন করা হয়। এনটিএ ওয়েবসাইটে ‘আনসার কি’ প্রকাশ করে। ‘আনসার কি’ আদতে কী? নির্দিষ্ট সিরিয়াল নম্বরের পরীক্ষার্থীর ওএমআরে দেওয়া প্রশ্নের সঠিক উত্তর কী, তা জানানো হয় ‘আনসার কি’-তে। পরীক্ষা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় পরীক্ষার্থীদের ইমেলে তাঁদের ওএমআর পাঠানো হয়েছে। মামলাকারীর বক্তব্য, তাঁর ‘আনসার কি’-র সঙ্গে ওএমআরের মিল নেই। ‘আনসার কি’ অনুসারে যে নম্বর পাওয়ার কথা ছিল, ওএমআরে তার চেয়ে প্রায় ৩৭০ নম্বর কম পেয়েছেন।
মামলাকারীর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় হাই কোর্টে সওয়াল করে জানান, ওএমআর কম্পিউটারের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। সেখানে ‘আনসার কি’-র সঙ্গে তার এত ফারাক কী ভাবে হল? ৩৭০ নম্বরের ফারাক যন্ত্রের ভুলে হতে পারে না। পরীক্ষার ওএমআর পরখের ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে বলে এনটিএ-র বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন মামলাকারী।
দেশে এখন ডাক্তারিতে ভর্তির কাউন্সেলিং চলছে। তাই বিচারপতি সিংহের বক্তব্য, ‘‘আদালত চাইছে দ্রুত এই বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাক এনটিএ।’’ আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি। বিচারপতি জানান, ওই দিন পরীক্ষক সংস্থাকে জানাতে হবে, কেন নম্বরে এমন বিস্তর গোলযোগ হল।
চলতি বছর ৩ মে হয় নিট। সেখানে প্রশ্নফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পরে পরীক্ষা বাতিল হয়। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২২ লক্ষ। নতুন করে ২১ জুন নিট হয়। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে ১৬ জুলাই। ফল প্রকাশের পরে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ওএমআর শিট নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। দেশের বিভিন্ন হাই কোর্টে মামলাও হয়েছে। এ বার কলকাতা হাই কোর্টে মামলা হল।
সৌজন্যে ডিজিটাল আনন্দবাজার।

