মমতার সঙ্গ ছাড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, তৃণমূলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করলেন
বাংলার জনরব ডেস্ক : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারো নিঃসঙ্গ হলেন এবার মমতার সঙ্গ ছাড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। ভাড়া বাড়িতে তৃণমূল ভবনের দখলদারি নিয়ে গতকাল যে কাজিয়া দেখা দিয়েছিল তার শেষ পরিণতি হল চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পদত্যাগ। গতকাল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে তৃণমূল ভবনে ঢুকে তালা মারলেন তার পেছনে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।
আর সেই ‘অভিমানে’ তৃণমূলের সমস্ত পদ ছাড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। রাজ্য সভাপতি-সহ একাধিক পদে ছিলেন তিনি। তৃণমূলের অ্যাকাউন্টের সিগনেটরি দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি চন্দ্রিমা। দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধার এই সিদ্ধান্তে আরও নিঃসঙ্গ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
চন্দ্রিমা জানান, “আমি জন্মলগ্নে ছিলাম না। দীর্ঘদিনের সৈনিক হিসাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। সংগঠনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে। গত ৩ জুন কালীঘাটের বৈঠকে এই রাজ্যের সভানেত্রী হিসাবে নিযুক্ত করেন। আমি সেদিন থেকে একটি দিনও হয়নি যেদিন আমি মেট্রোপলিটানের অফিসে যাইনি। গত ২২ জুন এবং ১ জুলাই ছাড়া রোজ গিয়েছি। আমার সহকর্মীরা স্বীকার করবেন সেকথা।”
এরপর ‘ঋত-তৃণমূলে’র মেট্রোপলিটানের ভবন দখলের প্রসঙ্গ টেনে চন্দ্রিমা আরও জানান, “শুক্রবার একটা ঘটনা হয়েছে যা সকলের জানা। বেশ কয়েকজন বিধায়ক গিয়েছিলেন। আমি যতক্ষণ ছিলাম ওই বিধায়করা আমার সঙ্গে কথা বলেননি। আমি বাড়ি চলে আসার পর মমতাদি ফোন করতে বলেন। ফোন করলে বলেন, তুমি ওদের হাতে ভবন তুলে দিলে? আমার এত দুঃখ হয়েছে। আমি বললাম, দিদি আপনি আমাকে এই কথা বলতে পারলেন? সেই কারণে আমি মনে করলাম আমার আনুগত্যে প্রশ্নচিহ্নে থেকে যাচ্ছে। আমি মনে করি এই পরিস্থিতিতে আর আমার কাজ করা উচিত নয়। আমি অনেক সময় অনেকের প্রতি কঠিন হয়েছি। কিন্তু আনুগত্যে কোনও খামতি নেই। বেদনাহত মন নিয়ে আমি ছেড়ে দিলাম।” কালীঘাটে আর যাওয়ার প্রশ্নই আসে না বলেও জানান ‘অভিমানী’ চন্দ্রিমা।
বলে রাখা ভালো, চন্দ্রিমা ছিলেন মমতার ছায়াসঙ্গী। গত ২০১১ সালে উত্তর দমদমের বিধায়ক হন। গত ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে পরাজিত হন তিনি। ২০১৭ সালে দক্ষিণ কাঁথি থেকে ভোটে জেতেন। ২০২১ সালে দক্ষিণ দমদম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়েন। জয়ীও হন। ২০২৬ সালে গেরুয়া ঝড়ে পর্যুদস্ত হন চন্দ্রিমা।

