জেলা 

পেট্রোল পাম্পে তেল পাচ্ছে না চাষিরা !

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিনিধি: পেট্রোল পাম্পে হয়রানির মুখে চাষি থেকে সাধারণ মানুষ। ব্যারেল, কন্টেনার, জার, বোতল জাতীয় কোন জায়গায় তেল দিচ্ছে না পাম্পগুলি। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে চাষীদের।পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে তাদের কিছু করার নেই, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক থেকে নির্দেশ জারি হওয়ার কারণেই খোলা জারে তারা তেল দিতে পারছে না। তবে পেট্রোলিয়াম এক্সক্লুসিভ সেফটি অর্গানাইজেশন- পেসো অনুমোদিত জার হলে সেক্ষেত্রে তেল নিতে পারবেন ক্রেতারা।

দেশজুড়ে জারি হওয়া নির্দেশিকায় সবথেকে ক্ষতির মধ্যে পড়ছেন চাষিরা। কৃষিক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় জারে করে তেল নিয়ে যেতে হয় চাষীদের, তারপর সেই তেলের মাধ্যমে জলের মেশিনসহ কৃষিজ ও নানা মেশিন কে চালানো হয়। চাষিরা বারবার পেট্রোল পাম্পে গেলেও তেল পাচ্ছেনা বলে ক্ষোব বাড়ছে সর্বত্র‌ শুধু চাষিরা নয়, একইভাবে তেল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যান্য ক্ষেত্রে মানুষরাও। বিভিন্ন নার্সিংহোম, রাইস মিল স্টোরগুলিতে প্রচুর পরিমাণ তেল লাগে। সাউন্ডলেস জেনারেটর অর্থাৎ ডিজি চালানোর জন্য, এছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কীভাবে সমাধান হবে তা বুঝতে পারছে না অনেকেই।

সম্প্রতি পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পেট্রোল পাম্প থেকে সাধারণ জারের মাধ্যমে তেল নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। অনুমোদিত কয়েকটি জার বাজারে এসেছে,অনুমোদিত ওই জারে তেল নেয়ার ছাড়পত্র দিয়েছে মন্ত্রক। তবে সাধারণ ব্যবসায়ী এবং চাষীদের কাছে সেই জার না থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। সম্প্রতি নতুন এক নির্দেশিকায় সাধারণ জারে তেলবাহনের ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে টেলিকম সেক্টর এবং ট্রলার গুলিকে। আপাতত ৯০ দিনের জন্য তেল দেওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। তবে রাস্তার যেকোনো গাড়িকে প্রতিদিন ২০০ লিটার করে ডিজেল দেওয়া হবে। অন্যান্য সেক্টর গুলিতে একই সাথে কৃষকদের নন পেসো জার ব্যবহারের ছাড়পত্র না দিলে আগামী দিনে ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে সরকারকে। কৃষি প্রধান হুগলি জেলার সর্বত্র আজ এই সমস্যায় জর্জরিত চাষিরা। চাষিরা দাবি করছে জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টির খোঁজ নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাদের ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা করুক।

না হলে আগামী দিনে আন্দোলনে নামতে হবে তাদের। বিষয়টি যে প্রকট আকার ধারণ করেছে জেলা জুড়ে তা এক কথায় স্বীকার করে নিচ্ছেন পেট্রোল পাম্পের মালিকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পেট্রোল পাম্পের মালিক বলেন পেসো অনুমোদিত ওই ক্যানে ২০ লিটার তেল ধরে। আমাদের কাছে তা নেই। এখন অনলাইনে তা কিনতে পাওয়া যাচ্ছে চড়া দামে। চাষিরা তেল না পেয়ে পাম্পে এসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সরকার ও প্রশাসন নজর না দিলে আগামী দিনে সমস্যা আরো বাড়বে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ