শিবম-এর বার্ষিক নৃত্যানুষ্ঠান
গালিব ইসলাম: ‘শিবম আর্ট মিউজিক এন্ড ড্যান্স একাডেমি’ (কালিন্দী, কলকাতা-৮৯), সংস্থার কর্ণধার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কথক নৃত্যশিল্পী দর্শিনীলালী চ্যাটার্জীর আন্তরিক আয়োজনে গত ২৭শে মে সন্ধ্যায় টালা পার্কের নিকটস্থ পাইক পাড়ার মোহিত মৈত্র মঞ্চে ২৯ তম বার্ষিক নৃত্যানুষ্ঠান হয়ে গেল। এই অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা ও কুচিপুড়ি নৃত্যশিল্পী ডঃ মাধুরী মজুমদার এবং বিশিষ্ট মনিপুরী নৃত্যশিল্পী সুদীপ কুমার ঘোষ। এছাড়াও অতিথি হয়ে উপস্থিত ছিলেন সমাজের অন্যান্য দিকের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ – কবি, লেখক, চিত্রশিল্পী ও সাহিত্য সংগঠক – হরিশঙ্কর কুণ্ডু; প্রাক্তন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সাংস্কৃতিক দপ্তরের আধিকারিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক – শ্যামল বিশ্বাস এবং উত্তরবঙ্গ থেকে আসা বিশিষ্ট কবি, লেখক, চিত্রশিল্পী ও পত্রিকা সম্পাদক – বাপ্পাদিত্য দে। সম্মানীয় অতিথিদের প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের এক শুভ মুহূর্তের সূচনা করেন। এবং অতিথিদের পুষ্পস্তবক, উত্তোরীয়, স্মারক, উপহার ও যথাযথ বাংলার রীতি মেনে সম্মান প্রদান করা হয়।

এই মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানে সংস্থার ছাত্রী ও কলাকুশলীদের দ্বারা মূলত কথক নৃত্য পরিবেশিত হয়। এইসব কথকের মধ্যে ছিল, শিব বন্দনা, বিষ্ণু বন্দনা, ত্রিতাল, ঝাঁপতাল, একতাল ধামার তালে নৃত্য পরিবেশনা। এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনৃত্য, রাধা কৃষ্ণের ভজন নৃত্য, দরবার এবং তারানা, বিভিন্ন কবির কবিতার পেক্ষাপটে নৃত্য পরিবেশনের মেলবন্ধন ঘটে। সংস্থার কর্ণধার কথক নৃত্যশিল্পী দর্শিনীলালী চ্যাটার্জী কবিতার আবৃত্তির সঙ্গে নৃত্য অভিনয় পরিবেশন করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী ও কবি জুমেলী সরকার।
এই সংস্থার ছাত্রী তৃষা পাত্র ও অর্পিতা দাস সর্বভারতীয় সাহিত্য এবং সংস্কৃতি পরিষদ থেকে নৃত্যরত্ন আওয়ার্ড পেয়েছেন। ছাত্রী তিয়াসা রায় দিল্লি থেকে বালকলা উৎসবে সেরা নৃত্যশিল্পী -তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। এই তিনজন নৃত্যশিল্পীকে সেরা সম্মান প্রদান করা হয় সোনারপুর কাব্যমঞ্চের পক্ষ থেকে।

