কলকাতা জেলা 

মমতাজি বাংলায় বিজেপি নামক বিভেদকামী শক্তিকে ডেকে এনেছেন বিস্ফোরক মন্তব্য রাহুলের

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির গোপন সেটিং আছে। আমার বিরুদ্ধে 36 টা কেস দিলেও ৫৫ ঘণ্টা ধরে এটি জেরা করলেও কোনদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে জেরা করেনি এবং তার বিরুদ্ধে কেশ দেয়নি এতেই পরিষ্কার মমতাদির সঙ্গে নরেন্দ্র মোদিজির সেটিং আছে। শুধু এরা ভোটের সময় এসে এওয়ার বিরুদ্ধে বলতে থাকে ভোট শেষ হয়ে যাবে আর এসব কথা বলবে না। মমতাজির বিরুদ্ধে একটি শব্দ উচ্চারণ করবেন না নরেন্দ্র মোদি বলে আজ গন্তব্য করেন রাহুল গান্ধী।। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী পশ্চিমবঙ্গের ভোট প্রচারে কলকাতা ও শ্রীরামপুরে এসেছিলেন। তিনি শ্রীরামপুরের সভা থেকে মমতা এবং নরেন্দ্র মোদিকে এক আসনে বসিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন নরেন্দ্র মোদির সারা দেশ জুড়ে দুর্নীতি করছেন আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি করছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্যই এই রাজ্যে বিজেপির বাড় বাড়ন্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ রাজ্যে বিজেপিকে ডেকে এনেছেন।

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে শনিবার শ্রীরামপুরে প্রচার করেন রাহুল। সেখানে তিনি বলেন, “যে কাজ মোদি গোটা ভারতে করছেন, বাংলায় একই কাজ করছেন মমতাজী এবং তৃণমূল। নরেন্দ্র মোদি সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করেন না। দু’-তিন জন শিল্পপতির জন্য কাজ করেন, যার মুনাফা মোদি এবং বিজেপি-র কাছে যায়। এখানে মমতাজীও একই কাজ করছেন। শিল্পকে শেষ করে দিয়েছেন, বেকারত্ব বাড়িয়েছেন।”

Advertisement

মমতার আমলে রাজ্যে শিল্প শেষ হয়ে গিয়েছে, বেকারত্ব বেড়েছে, তৃণমূলের গুন্ডাদের দাপাদাপি বেড়েছে বলেও এদিন দাবি করেন রাহুল। তাঁর কথায়, “বাংলায় চাকরি চাইলে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে হয়। তৃণমূলের গুন্ডা, দলের লোকজনের জন্য কাজ করেন উনি। সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেন না। এখানে আগে হিন্দুস্তান মোটর্সের কারখানায় অ্যাম্বাসাডর গাড়ি তৈরি হতো। প্রথমে বামেরা এবং তার পর মমতাজী শেষ করে দিয়েছেন।”

এর পরই দুর্নীতির প্রসঙ্গ টানেন রাহুল। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “বলা উচিত নয়, কিন্তু মোদি যেমন দুর্নীতি করেন, মমতাও কম যান না। তৃণমূল সারদা চিটফান্ড করেছে, রোজভ্যালি করেছে, সারদায় ১৯০০০ কোটি টাকা চুরি করেছে, রোজভ্য়ালিতে চুরি করেছে ৬৬০০ কোটি টাকা। কয়লা পাচার, গুন্ডা ট্যাক্স চেপেছে গোটা বাংলার উপর। নরেন্দ্র মোদি যেভাবে গোটা দেশে হিংসা ছড়ান, তৃণমূলেক গুন্ডারা সেটা এখানে করে। আমাদের লোকজনকে ধরে মারে। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে হিংসা ছড়ায়।”

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ৫ লক্ষ কর্মসংস্থানের কথা বললেও, আজও বাস্তবায়ন ঘটেনি বলেও এদিন অভিযোগ তোলেন রাহুল। বরং রাজ্যে বেকারভাতার জন্য ৮৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে বলে মন্তব্য করেন। রাহুল জানান, একসময় শিল্প-সংস্কৃতির কেন্দ্র ছিল বাংলা, স্বাধীনতা আন্দোলনে সবার অগ্রভাগে ছিল, গোটা দেশকে আশার আলো দেখাত। কিন্তু মমতা এত বছরে কিছু করেননি। মোদির দলের নেতারা মহিলাদের উপর অত্যাচার চালান, আর বাংলায় আরজি করের মতো ঘটনা ঘটে, সরকার তাদের আড়াল করে, দায়স্বীকার করে না বলেও অভিযোগ তোলেন রাহুল।

তৃণমূলের জন্যই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সুবিধা করতে পেরেছে বলে এর আগেও দাবি করেছেন রাহুল, আজও একই দাবি শোনা যায় তাঁর মুখে। বলেন, “মমতাজী বাংলার জন্য রাস্তা খুলে দিয়েছেন। উনি সঠিক ভাবে কাজ করলে, বাংলার জন্য কাজ করলে, দুর্নীতির জন্য কাজ করলে, আর জি কর মামলায় পদক্ষেপ করলে, আজ এখানে বিজেপি নামক বিপদ নেমেই আসত না। কংগ্রেস বিজেপি-র সঙ্গে লড়ে। আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে বলছি, জামিনে ঘুরছি আমি। বাড়ি, সাংসদপদ ছিনিয়ে দিয়েছে। ভূরি ভূরি মামলা। কখনও ঝাড়খণ্ড, কখনও মহারাষ্ট্র, কখনও গুজরাত, কখনও বিহার, কখনও উত্তরপ্রদেশ ছুটতে হয়। মামলা লড়তে ১০-১৫ দিন অন্তর যেতে হয় আমাকে। মমতাজীর উপর কী কোনও কেশ দিয়েছেন মোদি? মমতাজীকে কত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আমাকে ৫৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, পাঁচ দিন ধরে। মমতাজীর উপর আক্রমণ হয় না, ED-CBI কিছু নয়। কারণ মমতাজী বিজেপি-র সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ে যান না।”


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ