ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছে চীন
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে ইরানের ব্যবহারের জন্য চীন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের একটি চালান পাঠিয়ে থাকতে পারে। এমনটাই ধারণা করছেন কর্মকর্তারা বলেছেন, যদিও সংঘাত চলাকালীন মার্কিন বা ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি চীনের একটি পরিমিত কৌশল, যেখানে প্রভাব বাড়ানো এবং কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা হচ্ছে, কিন্তু সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়া এড়ানো হচ্ছে। বেইজিংয়ের এই ধরনের অস্ত্র পাঠানোর সম্ভাবনা প্রমাণ করে যে, চীনকে এই যুদ্ধে নিজেকে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা যে, এই যুদ্ধে চীন আরও সক্রিয় কিন্তু পরোক্ষ ভূমিকা নিচ্ছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠানকে ইরানে রাসায়নিক, জ্বালানি ও সামরিক উৎপাদনে ব্যবহৃত হতে পারে এমন যন্ত্রাংশ পাঠানোর অনুমতি দিচ্ছে। তবে, চীনা কর্মকর্তারা বলেছেন, এই ধরনের দ্বৈত-ব্যবহারের বাণিজ্য শুধুমাত্র সামরিক উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
ইরানের প্রতি চীনের সম্ভাব্য সমর্থন সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের পাশাপাশি, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করেছে যে, রাশিয়া ইরানকে স্যাটেলাইট গোয়েন্দা গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছে, যার মাধ্যমে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী এই অঞ্চলজুড়ে মার্কিন জাহাজ ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
সম্মিলিতভাবে, এই ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে কীভাবে বিশ্ব শক্তিগুলো পরোক্ষভাবে এই সংঘাতকে রূপ দিচ্ছে এবং ওয়াশিংটনের জন্য কৌশলগত ব্যয় বাড়িয়ে তুলছে। একই সময়ে, চীনের বৃহত্তর ভূমিকা তার অর্থনৈতিক প্রভাবকেও তুলে ধরে।
ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ‘ইরানের রপ্তানিকৃত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে চীন থেকে, যা থেকে বার্ষিক কয়েক হাজার কোটি ডলার রাজস্ব আসে এবং এই অর্থ ইরানের সরকারি বাজেট ও সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করে।’
ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের হেনরিয়েটা লেভিন বলেছেন, ‘বরং তারা কথার মারপ্যাঁচে ইরানের চেয়ে তাদের উপসাগরীয় অংশীদারদের পক্ষেই বেশি ঝুঁকছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও জ্বালানি সম্পর্ক চীনের জন্য ইরানের সঙ্গে তার যেকোনো সম্পর্কের চেয়ে অনেক দিক থেকেই কৌশলগতভাবে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।’

