কলকাতা 

ঈদ এখন অনেক বেশি ‘উৎসবমুখর’/ নায়ীমুল হক

শেয়ার করুন

 

দিনকে দিন ঈদ হয়ে উঠছে ‘উৎসবমুখর’, পাড়ায়-পাড়ায় আলোকসজ্জা, মোড়ে-মোড়ে রাস্তা দখল করে উঠছে তোরণ, ঝাঁ চকচকে স্টেজ– আরো কত কী! মুসলমানরা এখন অনেক বেশি ‘সংস্কৃতিমনা’। কী ভাবছেন আপনি! নায়ীমুল হক 

 

আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি মুসলমান পাড়ায়-পাড়ায় খুশির ঈদ মানাতে নানান কর্মকাণ্ডের চালচিত্রে। ঈদে মুসলমানরা এখন অনেক বেশি ‘উৎসবমুখী’। মূলত ‘ঈদ-সংস্কৃতির’ নামে সম্প্রতি শুরু হয়েছে নানান কর্মসূচি। রাস্তায় রাস্তায় ঝলমলে আলো, ব্যস্ত রাস্তা দখল করে সুউচ্চ তোরণ, বিকট আওয়াজে গান গজল ইত্যাদি।

Advertisement

সাধারণত সংখ্যার হিসেবে মুসলমানরা যেখানে গরিষ্ঠ, সেখানে এই চল শুরু হয়েছে বছর সাত-আটেক থেকে, কি আর একটু বেশি হলেও হতে পারে।

এর শুরু কীভাবে? বহুদিন ধরে জাতীয় পত্র-পত্রিকায় ঈদ সম্পর্কে আক্ষেপ করে লেখা হত–মুসলমানদের সবকিছুতেই ধর্মীয় প্রভাব বড় বেশি, এমনকি উৎসবেও তার লাগাম টানা। ঈদের দিনও সকাল সকাল উঠে স্নান সেরে নতুন জামা কাপড় পরে দু’ রাকাত নামাজ পড়া, ঘরে ফিরে সীমাই মিষ্টি ভক্ষণ, তারপর আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু বান্ধবের আসা-যাওয়া। ব্যাস্ এটুকুই। এতে নেই কোনও সংস্কৃতির ছোঁয়া, নেই তেমন কোনো উৎসবের আবেশ। এই আইডিয়ায় সম্ভবত প্রভাবিত হন সাধারণ মুসলমান। এখান থেকেই শুরু হয় ঈদ উৎসবকে কিছুটা সংস্কৃতি সম্পন্ন করে তোলার মরিয়া প্রচেষ্টা। ‘মরিয়া’ এই কারণে যে, এটা না হলে যেন মুসলমানরা প্রতিবেশীদের থেকে অনেকটা পিছিয়ে যাচ্ছে!

দুঃখের হলেও একথা সত্যি যে, বাঙ্গালীদের ইসলাম চর্চায় শিক্ষিত মুসলমানের প্রাধান্য অতি ক্ষীণ। ফলে মূলত অশিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত মুসলমানদের কাঁধে দায়িত্ব গিয়ে পড়ে ঈদের উৎসবকে কী করে আরো বেশি ‘সংস্কৃতিমনস্ক’ করে তোলা যায়।

ঈদের দিন আগে বন্ধুবান্ধব আত্মীয়-স্বজন নিয়ে কেটে যেত সারাদিন। এখন দিন বদলেছে, কমেছে প্রতিবেশী-বন্ধুদের আনাগোনা, নেই আর ছোটদের ইনিয়ে বিনিয়ে ‘ঈদি’ নেওয়ার রেওয়াজ। ঈদের কোলাকুলি এখন হোয়াটসঅ্যাপ ইমোজিতে সীমাবদ্ধ, একটু অবস্থাপন্নরা তল্পিতল্পা নিয়ে ঈদের ছুটিতে পাড়ি জমাচ্ছেন দীঘা, মন্দারমনি কিংবা আরেকটু দূরে। আর যারা দূরে কোথাও যেতে পারছে না, তাদের সংখ্যাটাই তো বেশি, বিশেষ করে যুবা শ্রেণি, পাড়ায় যাদের দাপট, অল্পবিস্তর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ইনিংস যাদের শুরু হচ্ছে, তারা কিন্তু এইসময় খুবই সক্রিয়। তাদের দায়িত্বে ঈদ এবার হয়ে উঠতে থাকে ‘উৎসবমুখর’। মসজিদ ধোয়া-মোছা করে রঙচঙে করা, পাড়ার অলিগলিতে আলোকসজ্জা করা, মূল রাস্তা জুড়ে তোরণ বানানোর ঢল। আর চাঁদরাত হতে না হতেই শুরু হয়ে যায় বড় বড় স্টেজ আর ডিজে-র হুংকার, সঙ্গে রঙবেরঙের আলোকচ্ছটা, বিজ্ঞানের ছাত্রদের মনে হতেই পারে যেন বেনিআসহকলা-র কী দারুণ সমাহার।

ঈদের দিন নামাজ শেষ হতে না হতেই ভিড় জমতে শুরু হয়ে যায় বিশালাকার স্টেজে। লাল-নীল ময়ূর সিংহাসন তখন পাড়ার উঠতি মেজো, ছোটদের দখলে। ইতিমধ্যে তারস্বরে বাজতে শুরু করেছে ঈদের গান – বাংলা হিন্দি, উর্দু এমনকি ইংরেজিতেও। এর পরের দিন-তিনেক নানান ‘সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে’ ভরপুর কম্বাইন্ড প্যাক।

প্রশ্ন উঠছে– ঈদ উপলক্ষে মুসলমান পাড়া যদি কিঞ্চিৎ সংস্কৃতিবান হয়েই ওঠে, তাতে ক্ষতিটা কি!

প্রশ্নের জবাব, প্রিয় পাঠক, আপনারাই ভাবুন, ভাবনার অনুশীলন করুন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ